বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: শুনতে অবাক লাগবে। কিন্তু এটাই সত্যি। এবার মশার (Mosquito) বিরুদ্ধে লড়াই করতে চলেছে টেক জায়ান্ট Google। সংস্থাটি জানিয়েছে, ডেঙ্গু থেকে শুরু করে ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়ার মতো ভয়াবহ রোগের প্রকোপ রুখতে এবার 3 কোটি 20 লাখ বিশেষ মশা ছাড়বে তারা। বিদেশি সংস্থার এমন ভাবনায় অবাক হচ্ছেন অনেকেই। তবে Google বলছে বিশেষভাবে তৈরি মশাগুলিকে ছাড়া হবে পরিবেশের স্বার্থে। কীভাবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
হঠাৎ কেন মশা ছাড়ার পরিকল্পনা Google-র?
মূলত আমেরিকায় বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের প্রকোপ আটকাতে ধাপে ধাপে 3 কোটি 20 লাখ মশা ছাড়ার জন্য প্রয়োজন ইউনাইটেড স্টেট এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির অনুমতি। এবার নাকি সেটা পাওয়ার জন্যই এই বিশেষ সংস্থার কাছে আবেদন জানিয়েছে Google। তারা সবুজ সংকেত দিয়ে দিলেই আমেরিকার ফ্লোরিডা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন ল্যাবে ধাপে ধাপে তৈরি হবে পুরুষ মশা। তাও আবার বিশেষভাবে।
মশা তাড়াতেই মশা তৈরির পরিকল্পনা
মশা দূর করতে হঠাৎ পুরুষ মশা তৈরির পরিকল্পনা কেন Google-র? আন্তর্জাতিক সংস্থাটির এমন পদক্ষেপের কথা শুনে প্রথমে এমন প্রশ্নই তুলছেন অনেকে। এর উত্তরে অবশ্য বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করে বলেছেন, Google যে বিশেষ পুরুষ মশা তৈরির পরিকল্পনা করছে তাদের শরীরে থাকে Wolbachia pipientis নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। এর ফলে এই পুরুষ মশা যখন স্ত্রী মশার সাথে মিলিত হবে তখন এই ব্যাকটেরিয়া স্ত্রী মশার ডিম ফুটতে বাধা দেবে। ফলে তৈরি হবে না মশার বংশ। তাতে স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে মশার সংখ্যা।
গবেষকরা বলছেন, সাধারণত পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না। যা কামরায় সেগুলি স্ত্রী মশা। এই ধরনের মশাই রোগ ছড়ায় এক শরীর থেকে অন্য শরীরে। ফলে Google-র এই পরিকল্পনা একদিক থেকে পুরুষ মশা তৈরি করবে অন্যদিক থেকে মশার বংশ নির্বংশ করবে।
অবশ্যই পড়ুন: ফিক্সড ডিপোজিটে ৮.১১% অবধি সুদ, দারুণ অফার দিচ্ছে এই ব্যাঙ্কগুলি
প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা Who এর রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রত্যেক বছর গোটা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মূলত সে কারণেই মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে মশাবাহিত রোগ রুখতে চাইছে Google। কাজেই টেক জায়ান্টের এই পরিকল্পনায় যদি সবুজ সংকেত মেলে সেক্ষেত্রে আমেরিকার ইতিহাসে এটাই হবে মশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে Google-র সবচেয়ে বড় এবং অন্যান্য বড় পরীক্ষাগুলির মধ্যে একটি। যদিও টেক জায়ান্টের এই পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।










