পুলিশের জালে আরেক তৃণমূল নেতা, পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার দেবরাজ চক্রবর্তী

Published:

Debraj Chakraborty Arrested

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বারংবার আদালতে গিয়ে হল না শেষরক্ষা! অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর, অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী (Debraj Chakraborty Arrested)। জানা গিয়েছে, আজ, পুরুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে। সম্পত্তির হিসাব নয়ছয়ের অভিযোগে দেবরাজ এবং অদিতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। অবশেষে পুলিশের ফাঁদে পা দিলেন তিনি।

গ্রেফতার দেবরাজ চক্রবর্তী

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়-পরিচিতদের নামে হস্তান্তরিত করেছিলেন রাজারহাট-গোপালপুরের সেই সময়ের বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। সেই কারণে দম্পতির বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন সম্পত্তি, তা গোপন করা এবং অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি, নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তি কম করে দেখানোর অভিযোগও উঠেছিল অদিতির বিরুদ্ধে। পাশপাশি তোলাবাজি, জমি দখলের মতো অভিযোগও ছিল তালিকায়। তাই কিছুদিন আগেই গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অদিতি এবং দেবরাজ।

পুরুলিয়া থেকে পাকড়াও করে পুলিশ

সূত্রের খবর, কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের জন্য আবেদন করলে অদিতি মুন্সিকে সবুজ সিগনাল দিলেও খারিজ হয়ে যায় দেবরাজের জামিন আবেদন। গত ২৪ জুন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত জানান, চারমাসের শিশুসন্তান রয়েছে অদিতির, তাই এই অবস্থায় তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করা হয়। তবে অদিতির বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিয়েছিল হাই কোর্ট। শুধু তাই নয়, বাগুইআটি থানা এলাকায় তিনি ঢুকতে পারবেন না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়। আর এমতাবস্থায় পুরুলিয়ার সদর থানা এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশিদের জন্য ফের চালু ভারতীয় পর্যটন ভিসা, স্বস্তিতে শিলিগুড়ির ব্যবসায়ীরা

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে পুরসভার উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। কিন্তু তৃণমূল তাঁকে টিকিট দেয়নি। তারপর কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। বিধাননগর পুরনিগম এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের টিকিটে লড়ে, জিতেওছিলেন। পরবর্তীতে যদিও ফিরে যান তৃণমূলে। বিয়ের পর স্ত্রী অদিতি মুন্সিকে রাজনীতিতে নিয়ে আসেন রাজনীতিতে। দেবরাজের এই গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি জানিয়েছেন,, ‘‘ওর অ্যারেস্ট হওয়া তো সময়ের অপেক্ষা ছিল। সিন্ডিকেটের নামে কোটি কোটি টাকা তুলেছে। ওর বেআইনি সম্পত্তির হিসাব আমিই পুলিশকে দিয়েছিলাম।’’