প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: হোমওয়ার্ক করেনি বলে শিক্ষিকার কাছে সজোরে থাপ্পড় খেল এক ছোট্ট ছেলে, আর তাতেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ল ৬ বছরের পড়ুয়া (6 year old boy died)। আর এই আকস্মিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা স্কুল। বিশাখাপত্তনমে (Visakhapatnam) শিক্ষিকার কারণে এই শিশুর মর্মান্তিক পরিণতি নিয়ে রীতিমত হতবাক অভিভাবকরা। ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে দেহ। শীঘ্রই শিক্ষিকার চরম শাস্তির দাবি জানিয়েছে মৃত পড়ুয়ার পরিবার
থাপ্পড় খেতেই মারা গেলেন পড়ুয়া
ঘটনাটি ঘটেছে বিশাখাপত্তনমে। পুলিশের তরফের জানানো হয়েছে ওই মৃত ছাত্রের নাম প্রণয় তেজ। স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ওই শ্রেণিকক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। যেখানে দেখা গিয়েছে, হোমওয়ার্ক না করার জন্য শিশুটিকে প্রথমে প্রবল বকাবকি করছেন শিক্ষিকা। ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে শিশুটি হাত জোড় করে কিছু বলার চেষ্টা করে। এরপর ওই শিক্ষিকা শিশুটির জামাকাপড় টেনে ধরে তার গালে সজোরে থাপ্পড় মারেন। এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শিক্ষিকার কোলেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে ওই খুদে পড়ুয়া। অনুমান তখনই হয়ত শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। শিক্ষিকা তাকে তোলার চেষ্টা করলেও শিশুটি আর সাড়া দেয়নি।
VISAKHAPATNAM: A tragic incident has emerged from Little Garden School, where a 6-year-old LKG student named Pranay died from severe shock and fear. The child suffered a fatal heart attack after being severely scolded and beaten by his teacher for not completing his homework. pic.twitter.com/d1h5cMaKzY
— Truth India Live (@Truthindialive) August 21, 2026
কী বলছে মৃতের পরিবার?
মৃত ছাত্রের পরিবারের দাবি, সে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। এমনকি আগের দিন রাতেও খুশি মনে ঘরে খেলা করছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠে সে জানায়, আজ সে স্কুলে যাবে। যেহেতু সামনে পরীক্ষা তাই বাড়ির লোক স্কুলে যেতে দিচ্ছিল না কিন্তু পরে শেষপর্যন্ত তাকে স্কুলে পাঠানো হয়। পরে প্রণয়ের অসুস্থতা নিয়ে বাড়িতে ফোন আসে। তাতেই জানা যায়, স্কুলে প্রণয়ের কোনও ‘বিপদ’ হয়েছে। কিন্তু সেই ফোনটা স্কুল থেকে আসেনি। এসেছিল আশপাশের এক পরিচিতর কাছ থেকে। এদিকে তড়িঘড়ি প্রণয় কে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, আধঘণ্টা আগেই মৃত্যু হয়েছে প্রণয়ের।
আরও পড়ুন: অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশে, নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে গ্রেপ্তার ৪ রোহিঙ্গা
ইতিমধ্যেই প্রণয়ের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে রিপোর্ট এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। সেখানে মৃত্যুর কারণ জানা গেলে বিষয়টি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা করা যাবে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। এদিকে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে তারা। পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি মামলা রুজু করেছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।










