সাজতেন মমতার মতো, এখন পরছেন জিন্স-টি শার্ট! কীভাবে বদলে গেল সায়নীর হালচাল?

Published:

Saayoni Ghosh

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এক সময় মমতার মতোই সাদা শাড়ি, সাধারণ খোপা, আর দিদির স্টাইলের হাওয়াই চপ্পল পরিহিত অবস্থায় দেখা যেতে অভিনেত্রী তথা তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষকে (Saayoni Ghosh)। তবে এখন তিনি বিদ্রোহী শিবিরে। সেই চেনা ছবিটাই যেন বদলে গিয়েছে। শাড়ির বদলে জায়গা করে নিয়েছে জিন্স আর টি-শার্ট, সঙ্গে স্নিকার্স আর আধুনিক স্টাইলের পোশাক। তাঁর এই পরিবর্তন ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। তাহলে কি মমতাকে দেখানোর জন্যই সায়নীর ওই সাজ ছিল?

বদলে গেল সায়নীর ড্রেস-আপ

আসলে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকে সায়নীর সাজসজ্জায় এসেছে পরিবর্তন। কলকাতা থেকে দিল্লি, বিভিন্ন জায়গায় তাঁর নতুন এয়ারপোর্টের লুক একেবারে নজর কাড়ছে রাজনৈতিক মহলের। কোথাও মুখে মাক্স দিয়ে মাথায় টুপি, আবার কোথাও জিন্স, টি-শার্ট। বাহারি সব পোশাক। প্রশ্ন ওঠে, যে সায়নী একসময় প্রকাশ্যে বলেছিলেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সাধারণ থাকতে চান, তিনি কীভাবে এরকম মডার্ন হয়ে উঠলেন? রাতারাতি কীভাবে তিনি স্টাইল বদলে ফেললেন?

কেন মমতার মতো সাজতেন সায়নী?

আসলে গত বছরের নভেম্বর মাসে এক সাক্ষাৎকারে সায়নী ঘোষ নিজেই বলেছিলেন, তিনি যে দলের রাজনীতি করেন সেই দলের নেত্রীর ভাবধারার সঙ্গে মিলিয়ে থাকতে চান। তাঁর কথায়, “আমি যার দল করি আমাকে তাঁর মতো করে সাধারণ থাকতে ভালো লাগে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যতই দেখছি ততই তাঁর সাধারণ জীবনযাপন আমার উপরে প্রভাব ফেলছে। দিদির সাধারণ হওয়াটা আমার উপরে ভর করে যাচ্ছে। আমি জানি, আমি যে দল করি তাঁর দল করতে নরেন্দ্র মোদীর মতো দেখতে হলে মুশকিল হবে, বা ওঁর দল করতে আমাকে যদি সিপিএম নেতার মতো লাগে বা সোনিয়া গান্ধীর মতো লাগে তাহলেও সমস্যা।”

আরও পড়ুন: শ্বশুরকে ‘বাবা’ দেখিয়ে ধর্ম লুকিয়ে হিন্দু সাজেন সাগরদিঘির তৃণমূল নেতা ‘আমিরালি’, গ্রেফতার

তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই সময় সায়নী সাদামাটা জীবনযাপনে স্বাচ্ছন্দ্য ছিল। কিন্তু এখন স্পষ্ট যে সেটা ছিল সম্পূর্ণ রাজনীতির অংশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধারণ জীবনযাপন আর মাটির কাছাকাছি থাকার ভাবমূর্তি সায়নীকে সেই সময় আকৃষ্ট করে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সবকিছু। এখন সায়নীকে আধুনিক ক্যাজুয়াল পোশাকেই দেখা যাচ্ছে। আর এমনিতেই বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন তিনি। মমতার ধারেপাশে আর দেখা যায় না তাঁর প্রিয় পাত্রীকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে শুধুমাত্র ফ্যাশন নয়, বরং রাজনৈতিক কৌশলই কাজ করছে। ভোটের ফলাফলের পরেই সায়নী নিজের পরিচয় আলাদা করতে চাইছেন।