অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে বাদ সাড়ে ৫ লক্ষ মহিলা! তালিকার কারা?

Published:

Annapurna Bhandar

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: লক্ষীর ভাণ্ডারের উপভোক্তারাই পাবেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar)। জানিয়েছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্রিমিত্রা পাল। তবে তার জন্য শুরু হয়েছে যাচাই প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রথম ধাপেই বাদ গিয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ মহিলার নাম। রাজ্য সরকার (Government of West Bengal) আগে জানিয়েছিল যে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাবে না। সেই সূত্র ধরেই বাদ পড়া ২৯ লক্ষ মহিলার মধ্যে আনুমানিক ১৯% নাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে বাদ গিয়েছে। তবে এখনও চলছে যাচাই প্রক্রিয়া।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে বাদ বিপুল সংখ্যক মহিলা

ক্ষমতায় আসার আগেই বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, লক্ষীর ভাণ্ডার বদলে নাম রাখা হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, এবং সেখানে ভাতা দ্বিগুণ করে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে মহিলাদের। সেই মতোই সরকার গঠনের পর লক্ষীর ভাণ্ডারের তথ্য যাচাই শুরু হয়েছে। বিগত এসআইআর প্রক্রিয়ায় যারা মৃত, ডুপ্লিকেট বা স্থানান্তরিত ভোটার ছিল, তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার কথা। এমনকি যারা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেও বাদ গিয়েছে, তাঁদেরও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাওয়ার কথা নয়। একথা আগেই জানিয়েছিলাম রাজ্যের পুরমন্ত্রী। কিন্তু যারা ট্রাইব্যুনালে বিবেচনাধীন অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদের নাম ওয়েটিং লিস্টে রাখা হবে। নিষ্পত্তি হলে প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

এদিকে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এবার এএসডিডি ক্যাটাগরির আওতায় এসআইআর-র সময় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। তার মধ্যে অর্ধেক যদি ধরি, তাহলে ২৯ লক্ষ মহিলা থাকতে পারেন। তবে ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত জেলা মিলিয়ে মোট বাদ পড়া উপভোক্তার সংখ্যা ৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৫২৮ জন, যেখানে প্রথমেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ। সেখান থেকে বাদ পড়েছে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৪৮১ জন। আপাতত এই সংখ্যা ধরলেই রাজ্য সরকারের মাসিক সাশ্রয় হবে ১৬৫ কোটি টাকা, যা বছরের হিসাবে ১৯৮২ কোটি। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে মোট ২.২১ কোটি উপভোক্তা ছিল বলেই দাবি করেছিল।

আরও পড়ুন: ডিজেল-বিদ্যুৎ অতীত, জলে ছুটবে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন! অনুমোদন রেলের

এদিকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে আয়ের কোনও ঊর্ধ্বসীমা ছিল না। কিন্তু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যে সমস্ত মহিলার আয়কর দেন বা সরকারি চাকরি করেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। এমনকি এএসডিডি ক্যাটাগরি অনুযায়ী যে সমস্ত উপভোক্তার নাম মৃত তালিকায় রয়েছে, তাঁদেরও বাদ পড়ার কথা। আর ভোটার তালিকায় থাকা সংশ্লিষ্ট মহিলাদের সবাইকেই পার্ট, সিরিয়াল নম্বর ধরে আলাদা করে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তারপরেই তার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বাদ পড়ার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।