সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বর্ষা এসে গিয়েছে। আর এই মরসুম মানেই রেল যাত্রীদের নতুন করে ভোগান্তি আর ভোগান্তি। বর্ষাকালে রেল যাত্রীরা ট্রেন বাতিল থেকে শুরু করে ট্রেন দেরিতে চলার মতো সমস্যার সম্মুখীন হন। একটানা বৃষ্টির প্রভাব রেল পরিষেবার ওপর পড়ে। যদি ট্র্যাকের উপর জল জমে যায়, ট্রেনের চাকা থমকে যায়। তবে এবছর আর সেই সমস্যা হবে না বলে আশাবাদী রেল। নিশ্চয়ই ভাবছেন কেন? আসলে বিশেষ ব্যবস্থা করেছে পূর্ব রেল (Eastern Railway zone)।
রেল যাত্রীদের জন্য দারুণ সুখবর
ট্র্যাকে জল জমে ট্রেন বাতিল বা ট্রেন দেরিতে চলার মতো সমস্যার সমাধানের জন্য, রেল কর্তৃপক্ষ এই সময়ে নিরবিচ্ছিন্ন পরিষেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পূর্ব রেলওয়ে বর্ষার আগে থেকেই মসৃণ রেল পরিষেবা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্কারের নেতৃত্বে, পূর্ব রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল, সিগন্যালিং এবং অপারেটিং ইউনিটগুলোকে সমন্বয় করছে যাতে বেশি বৃষ্টি ট্রেন চলাচলে বাধা না দেয়।
কাজ শেষ হয়েছে হাওড়া, শিয়ালদা ডিভিশনে
বৃষ্টির সময় রেলপথ পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি সত্ত্বেও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। হাওড়া ডিভিশনে, ট্র্যাক এবং ক্রস-ট্র্যাক বরাবরের ১০৬,৮৩৯ মিটার ড্রেনের মধ্যে ১০৪,০৯৭ মিটারে পরিষ্কার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও, শিয়ালদা ডিভিশনে পরিচ্ছন্নতা অভিযানও শেষ হয়েছে। ড্রেনের মুখগুলো সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে যাতে দু’টি ডিভিশনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা এবং পরিষ্কার করা যায়, যাতে পথের উপর বা কাছাকাছি জল জমতে না পারে।
রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং ব্যবস্থা
রেলওয়ে রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং পদ্ধতির মাধ্যমে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়াচ্ছে। হাওড়া ডিভিশনে ৪৭টি স্থানের নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যেই ৯টি সাইটে রক্ষণাবেক্ষণ শুরু হয়েছে, এবং বাকি ৩৮টি স্থানে কঠোর পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে যাতে ভারী বর্ষণের সময় দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণ শুরু করা যায়। শিয়ালদা ডিভিশনে চিহ্নিত সব স্থান রেলওয়ের মনসুন প্যাট্রোলিং চার্ট ব্যবহার করে ঘনিষ্ঠভাবে মনিটর করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ বর্ষা এলেও কমেনি তাপপ্রবাহ, কয়েকটি জেলার স্কুলে গরমের ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা
রেল সূত্রে খবর, স্থানীয়ভাবে জলের স্তর পর্যবেক্ষণের জন্য, হাওড়া ডিভিশন ১০টি নতুন লিমিটেড হাইট সাবওয়ে (LHS) তৈরি করেছে রেল এবং প্রতিটিতে ২৪ ঘণ্টার জন্য একজন করে পেট্রোলম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া যে সব জায়গায় জল জমে যাওয়ার প্রবণতা বেশি, সেখানে আরও ৫৪টি LHS-এ কর্মী মোতায়েন করা হবে। হাওড়া ডিভিশনের ১৯৫টি স্টেশন এবং ১,৪৯৩টি প্ল্যাটফর্ম শেড পরিদর্শন করা হয়েছে।










