আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পূর্ব বর্ধমানের (Purba Bardhaman) ভাতারের বলগোনা শুশুনদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজেপি নেতার ভূমিকা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ, ভাতার (Bhatar) বিধানসভার বিজেপি কনভেনার সুব্রত গোস্বামী স্কুলের একটি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষকের চেয়ারে বসে পড়েন। সেখানে তিনি পড়ুয়াদের সঙ্গে ‘বিকশিত ভারত’ নিয়ে আলোচনা করেন। শ্রেণিকক্ষের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষককে মাথা নিচু করে বিজেপি কনভেনারের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
শিক্ষকের মর্যাদা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষকের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে স্কুলের শ্রেণিকক্ষে এই ধরনের আলোচনা করাটা কি ন্যায্য? শিক্ষকের আসনে বসার বিষয়টি নিয়েই আপত্তি জানায় বিরোধীরা। স্থানীয় স্তরেও বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় চাপানউতোর।
ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলি। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় SFI ও DYFI-এর তরফে স্কুলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে আনাটা ঠিক নয়। সমাজের সবকিছুই তো এখন রাজনীতির অংশ, কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অন্তত রাজনীতি থেকে দূরে রাখা প্রয়োজন। একইসঙ্গে ঘটনার জন্য জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: “বাংলার অভিশাপ, বিজেপির নেতা-মন্ত্রীদের শ্রীঘরে থাকতে হবে” দেশে ফিরেই হুঙ্কার অভিষেকের
বিরোধীদের অভিযোগ, স্কুলের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এভাবে রাজনৈতিক নেতার উপস্থিতি এবং শিক্ষকের চেয়ারে বসার ঘটনা শিক্ষকের মর্যাদাকে খাটো করে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বিষয়টি নাকি রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে পড়ে না। তাঁদের বক্তব্য, অহেতুক জটিল না করে এটিকে সাধারণ আলোচনার অংশ হিসেবেই দেখা উচিত। তবে তাঁদের এই ব্যাখ্যা, বিতর্কটিকে পুরোপুরি থামাতে পারেনি।










