প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় এসে গিয়েছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), তাই জোরকদমে চলছে ভোট প্রচারের প্রস্তুতি। জনসংযোগ বৃদ্ধিতে কোনরকম ত্রুটি রাখছে না শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। এমতাবস্থায় আলিপুরদুয়ারে (Alipurduar) প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনী প্রচারে এসে ফ্যাসাতে পড়লেন নীতিন নবীন (Nitin Nabin)। নাম উচ্চারণ করতে অসুবিধা হওয়ায় এবার সেখানকার নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
আলিপুরদুয়ারের নাম পরিবর্তন!
রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ বুধবার আলিপুরদুয়ারে সভা করতে আসেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে সোনাপুর পুজারি সংঘের মাঠের জনসভায় তাঁর সভা ছিল। এদিকে জনসভায় এলাকার নাম বলতে গিয়ে হোঁচট খেলেন কমপক্ষে দু’বার। আলিপুরদুয়ারের নামই ভুলে গেলেন তিনি। পরে কর্মীদের সহায়তায় নাম উচ্চারণ করলেও এবার সেই নাম পরিবর্তনের ডাক দিলেন তিনি। নীতিন নবীন জনসমক্ষে জানান, “রাজ্যে ক্ষমতায় এলে আলিপুরদুয়ারের নাম বদল করা হবে। এমন নাম রাখব যা আলিপুরদুয়ারের বিকাশের রাস্তা খুলে দেবে।” কিন্তু কী নাম রাখা হবে সেই নিয়ে স্পষ্ট কিছুই জানানো হয়নি।
দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ নীতিনের
রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করে বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন বলেন, “তোলাবাজি, তোষণ, মাফিয়ারাজ আর দুর্নীতির সরকার চলছে এ রাজ্যে। উন্নয়নের বদলে এ রাজ্যে স্রেফ দুর্নীতি চালাচ্ছে তৃণমূল। প্রথমে ছিল কংগ্রেস, তারপর বামেরা, আর এখন তৃণমূল। যে রাজ্যটি একসময় শিল্প থেকে সংস্কৃতি পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশে নেতৃত্ব দিত, তা এখন অন্ধকারে ঢাকা।” এদিন তিনি বাংলায় অনুপ্রবেশকারী ইস্যু নিয়েও সরব হন। নীতিন নবীন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিজেপি ‘ডবল-ইঞ্জিন’ সরকার গঠন করলে জনসংখ্যার বিন্যাস সংশোধন করা হবে। রাজ্য থেকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো হবে।” যদিও কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। আলিপুরদুয়ারের নাম উচ্চারণ নিয়ে রীতিমত নীতিনকে তুলোধোনা করল শাসকদল।
ভুল নাম উচ্চারণ নীতিন নবীনের
জানা গিয়েছে, নীতিন নবীন আলিপুরদুয়ারের নাম মঞ্চে ঠিক করে উচ্চারণ করতে না পারা নিয়ে একটি ভিডিও শেয়ার করে তৃণমূল। সেখানে লেখা হয় যে, ‘এই হল বাংলা বিরোধী বহিরাগত, যাদের বাংলার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। বাংলাকে একটুও সম্মান করে না। বাংলাকে নিয়ে কোনও আগ্রহ নেই। যাদের কাছ থেকে ভোট চাইতে আসছেন, সেখানকার ভৌগোলিক অবস্থানও তাঁদের অজানা। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জানেনই না কোথায় প্রচার করছেন। স্থানীয় বিজেপি নেতারা আপনার জন্য কিছু করবে বিশ্বাস করেন? বাংলার মানুষ ঔদ্ধত্য এবং অবহেলা সহ্যের সীমা পার করে ফেলেছেন।”
আরও পড়ুন: সিভিক পুলিশ বাদ, নামছে আরও ১৫০ কোম্পানি বাহিনী! বাংলায় ভোট নিয়ে কড়াকড়ি কমিশন
উল্লেখ্য, এর আগে, উত্তর দিনাজপুরে বিজেপি-র পরিবর্তন যাত্রার কর্মসূচিতে এসেও ইসলামপুরের নাম বদল করে ঈশ্বরপুর রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন। দাবি করেছিলেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলেই ইসলামপুরের নাম বদল করা হবে। এবার আলিপুরদুয়ারের নাম বদলের ক্ষেত্রেও একই মত প্রেরণ করলেন। এদিকে গতকাল কার্যত ফাঁকা মাঠে বক্তৃতা দিয়েছিলেন নীতিন নবীন। কর্মী সমর্থকদের সেরকম ভিড় চোখেই দেখা যায়নি। রাজনৈতিক মহলের দাবি, উত্তরবঙ্গকে যেখানে সকলে বিজেপির শক্ত ঘাটি বলা হয় সেখানে এরকম চিত্র খুবই চিন্তার বিষয়












