সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ আর মাত্র কিছুটা অপেক্ষা, তারপরেই সর্বসাধারণের জন্য খুলে যাবে ভারতের প্রথম ৮ লেনের টানেল (India’s first 8-lane tunnel)। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। এই টানেলটি মুকুন্দ্রা হিলস টাইগার রিজার্ভের মধ্যে দিয়ে গেছে, যেখানে বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য একটি ভূগর্ভস্থ টানেল নির্মাণ করা হয়েছে। টানেলটিতে দুটি টিউব রয়েছে, প্রতিটিতে চারটি করে লেন, মোট আটটি লেন। নির্মাণকাজের সময় বন্যপ্রাণীদের যাতে কোনওরকম সমস্যা না হয় সেজন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল। যে কারণে প্রজেক্টের কাজ শেষ হতে অনেকটাই সময় লেগেছিল।
ভারতে তৈরি হচ্ছে প্রথম ৮ লেনের টানেল
রিপোর্ট অনুযায়ী, টানেলের উপরে একটি প্রাকৃতিক বনভূমি থাকবে। মোট ১৩৮০-১৪০০ কিলোমিটার টানেলটি দিল্লি থেকে শুরু হয়ে গুরুগ্রাম, আলওয়ার, জয়পুর, আজমির, কোটা, চিতোরগড়, উদয়পুর, রতলাম, ইন্দোর, উজ্জয়িন, ভাদোদরা, আহমেদাবাদ ও সুরাট হয়ে মুম্বাই পর্যন্ত গেছে। এর বেশ কিছু অংশ ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। ভাদোদরা পর্যন্ত অংশটি চালু রয়েছে। পরে পুরোপুরি টানেলটি চালু হলে কোটার কাছে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আঁকাবাঁকা ও যানজটপূর্ণ রাস্তার চাপ কমবে।
কমবে যাত্রার সময়
গুরুগ্রাম থেকে ভাদোদারা যেতে বর্তমানে সময় লাগে ২০-২২ ঘণ্টা। কিন্তু পরবর্তীকাল তা কমে ১০-১২ ঘণ্টা হবে। ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে পুরো এক্সপ্রেসওয়েটি মুম্বাই পর্যন্ত চালু হওয়ার কথা। এটি হলে গুরুগ্রাম-মুম্বাই যাত্রার সময় ২৪ ঘণ্টা থেকে কমে ১২ ঘণ্টা হবে। যানবাহনগুলো ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিমি গতিতে চলতে পারবে, ফলে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে। NHAI-এর মতে, এক্সপ্রেসওয়েটি দিয়ে বর্তমানে প্রতিদিন ২৫,০০০-৩০,০০০ যানবাহন চলাচল করে এবং টানেলটির কাজ শেষ হলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। মিডিয়ানটি ২১ মিটার চওড়া, ফলে প্রয়োজনে লেন সম্প্রসারণ করা সহজ হবে।
আরও পড়ুনঃ ডবল ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব! শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বাড়বে দুর্যোগ, আগামীকালের আবহাওয়া
এই প্রকল্পটি হরিয়ানা, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং গুজরাটের উন্নয়নকে আরও কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। রণথম্ভোর, মুকুন্দ্রা এবং অন্যান্য অঞ্চলের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে যাতায়াত আরও সহজ হবে। বর্তমানে, টানেলটির চূড়ান্ত পরিদর্শন চলছে এবং শীঘ্রই পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি চালু হয়ে গেলে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।












