পরিকল্পনা করেছিলেন এপিজে আবদুল কালাম, সেই ধ্রুবাস্ত্র মিসাইল পাচ্ছে ভারতীয় সেনা

Published:

Dhruvastra

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পরিকল্পনা বহুদিনের। এবার দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং উন্নয়ন সংস্থা বা DRDO র হাত ধরে নাগ অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইলের নতুন সংস্করণ ধ্রবাস্ত্র (Dhruvastra) পেতে চলেছে ভারতীয় সেনা। জানা যাচ্ছে, বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে এই ক্ষেপণাস্ত্র শত্রু দমনে বেশ কার্যকরী হতে চলেছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা খাতের গবেষকদের দাবি, বিশেষ করে ভারতের কাশ্মীর এবং লাদাখ সীমান্তকে রক্ষা করতে ব্যবহার করা হবে এই ক্ষেপণাস্ত্র।

কতটা শক্তিশালী এই ধ্রুবাস্ত্র?

ইন্ডিয়ান ডিফেন্স রিসার্চ উইং এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য যে ধ্রুবাস্ত্র তৈরি করা হয়েছে সেটি সহজেই হেলিকপ্টার থেকে নিক্ষেপযোগ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত সুসংহত গাইডেড মিসাইল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের অংশ।। কমবেশি সকলেই জানেন, 1980-র দশকে মিসাইল ম্যান নামে পরিচিত ডঃ এপিজে আব্দুল কালাম এই বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই পরিকল্পনা থেকেই এবার ভারতীয় সেনাবাহিনী পেতে চলেছে নাগ ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত সংস্করণ ধ্রুবাস্ত্র।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূমি থেকে যেমন ছোঁড়া যায় তেমনই ছোঁড়া যায় আকাশে থেকেও। এমনকি রকেট লঞ্চারের মাধ্যমেও এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। এই ক্ষেপণাস্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি এটি তৃতীয় প্রজন্মের ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট সিস্টেম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রকে একবার তার লক্ষ্য দেখিয়ে দিলে, আর দ্বিতীয় চিন্তা করতে হয় না। অর্থাৎ এই মিসাইল নিজের লক্ষ্যবস্তুতে একবার লক হয়ে গেলে সেটি অটোমেটিক ভাবেই শত্রুকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেটি ট্র্যাক করে ধ্বংস করবে।

সবচেয়ে বড় কথা, দিন-রাতের পার্থক্য নির্বিশেষে যেকোনও প্রতিকূল আবহাওয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র কাজ করতে পারে। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যেও এই ক্ষেপণাস্ত্র একেবারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তুতে নজর রেখে সেটিকে গুঁড়িয়ে দিতে পারবে। বলে রাখা প্রয়োজন, এই ক্ষেপণাস্ত্রের রেঞ্জ 7 কিলোমিটার পর্যন্ত। যদিও এটি 800 কিলোমিটারের পুরু ইস্পাত প্লেট ভেদ করার ক্ষমতা রাখে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই ক্ষেপণাস্ত্রর ওজন মাত্র 43 কেজি।

অবশ্যই পড়ুন: কমতে চলেছে ইলেকট্রিক বিল? কয়লা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কোল ইন্ডিয়ার

বিশ্লেষক মহলের অনেকই মনে করছেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে একবার এই ক্ষেপণাস্ত্র চলে এলে পাকিস্তান এবং চিনের মতো শত্রুরা ভারতের বুকে হামলা চালানোর আগে দশবার ভাববে! রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে বহন করার জন্য নতুন করে 156টি প্রচণ্ড হেলিকপ্টার অর্ডার দিয়েছে। বলে রাখি, 2023 সালে একসাথে 200-টিরও বেশি ধ্রুবাস্ত্র মিসাইলের অর্ডার দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এর জন্য সরকারের খরচ হয়েছিল 700 কোটি টাকা।