প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের ভয়ংকর জাহাজডুবির ঘটনা ঘটল আন্দামান সাগরে (Boat Capsize In Andaman Sea)! ঘটনায় অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে, যার মধ্যে মহিলা ও শিশুরাও ছিল। আসলে মায়ানমারে দমন-পীড়ন ও গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা (Bangladeshi Rohingya) প্রতি বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অস্থায়ী নৌকায় বিপজ্জনক সমুদ্রপথে যাত্রা করেন। এবারেও সেই যাত্রা করতে গিয়ে ভয়ংকর দুর্ঘটনা ঘটে যায়। শোক প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা UNHCR।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রিপোর্ট মোতাবেক, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের টেকনাফ থেকে যাত্রা শুরু করে মালয়েশিয়ার দিকে যাচ্ছিল জাহাজটি। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া, উত্তাল সমুদ্রের জেরে আন্দামান সাগরের কাছে সেটি ডুবে যায়। মহিলা-শিশু সহ ২৫০ জন যাত্রী সেই জাহাজে ছিল বলে জানা গিয়েছিল। তবে শেষ আপডেট অনুযায়ী জানা গিয়েছে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৯ জনকে উদ্ধার করা গিয়েছে। বাকি সকলে মারা গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, এসব যাত্রী সম্ভবত কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো ছেড়ে আসছিলেন।
বিবৃতিতে শোক প্রকাশ UNHCR এর
ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল এবং উপকূলরক্ষী বাহিনী শুরু থেকেই অদম্য চেষ্টা করে যাচ্ছিল যাত্রীদের বাঁচানোর জন্য। কিন্তু উত্তাল সমুদ্র ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকার্য ব্যাহত হচ্ছিল বারংবার। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশ্যে এসেছিল। এবং এই ঘটনা উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেছিল জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা UNHCR এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা IOM। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে রোহিঙ্গাদের জীবন সুরক্ষা নিয়ে।
আরও পড়ুন: হাওড়া-দিল্লি রুটে ২৪টি স্পেশাল ট্রেন ঘোষণা পূর্ব রেলের, জানুন সময়সূচি
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলির হাল অত্যন্ত খারাপ। শুধু তাই নয়, যত দিন যাচ্ছে ততই ক্যাম্পের জীবনযাপন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাবও রয়েছে বেশ। তাই এই কারণে ওই ক্যাম্পে থাকা মানুষ নিরাপত্তা, সুযোগ ও রোজগারের আশা নিয়ে এমন বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করে চলেছে প্রতি নিয়ত। আসলে বিদেশে ভালো বেতনের আশা এবং পাচারকারীদের প্রলোভন রোহিঙ্গাদের জীবনে বিশাল ঝুঁকি নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। আর এসবের কারনেই বিপজ্জনক সমুদ্র যাত্রায় মৃত্যু হচ্ছে একের পর অসহায় প্রানগুলির।










