২০২৬-এ সরস্বতী পুজো কবে, জানুন সময়সূচী ও পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র

Published:

Saraswati Puja 2026

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ২০২৬ এ সরস্বতী পূজা কত তারিখে (Saraswati Puja 2026)? কবে পড়ছে বসন্ত পঞ্চমী?  বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। তার মধ্যে অন্যতম হল সরস্বতী পূজা বা বসন্ত পঞ্চমী। ইংরেজি নববর্ষের শুরুর দিকেই এই সরস্বতী পূজা পড়ে। মূলত মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী বা বসন্ত পঞ্চমী তিথিতেই সরস্বতী পূজা হয়। আর এই পূজার জন্য সারা বছর ধরেই শিক্ষার্থীরা অপেক্ষা করে থাকে। কারণ, বাগদেবীর উদ্দেশ্যে অঞ্জলি দিয়ে তারা বিদ্যা, বুদ্ধি, জ্ঞান লাভ করার জন্য মা সরস্বতীর কাছে প্রার্থনা করে। তবে পঞ্জিকা কী বলছে? আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে সরস্বতী পূজা কত তারিখে? দিনক্ষণ, সময়সূচি, তিথি নক্ষত্র কী রয়েছে? জানুন এই প্রতিবেদনে।

২০২৬ সালে সরস্বতী পূজা কত তারিখে? | Saraswati Puja 2026 Date And Time |

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে সরস্বতী পূজার দিনক্ষণ এবং সময়সূচি নিম্নরূপ—

  • ইংরেজি তারিখ: আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার সরস্বতী পূজা পড়ছে।
  • বাংলা তারিখ: বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৪৩২ সনের ৯ মাঘ পড়ছে সরস্বতী পূজা।

সরস্বতী পূজা তিথি | Saraswati Puja Tithi 2026

  • পঞ্চমী তিথি শুরু: বসন্ত পঞ্চমী তিথি শুরু হচ্ছে ২২ জানুয়ারি রাত ২:২৮ মিনিট থেকে।
  • পঞ্চমী তিথি শেষ: বসন্ত পঞ্চমী তিথি শেষ হচ্ছে ২৩ জানুয়ারি রাত ১:৪৬ মিনিটে।
  • বসন্ত পঞ্চমীর মূল মুহূর্ত: ২৩ জানুয়ারি সকাল ৭:১৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২:৫০ মিনিট পর্যন্ত। অর্থাৎ, এই সময়কালের মধ্যে পূজা করা সবথেকে শুভ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সরস্বতী পূজা ২০২৬ একঝলকে

বিষয়

তথ্য

উৎসবের নাম

সরস্বতী পূজা

ইংরাজি তারিখ

২৩ জানুয়ারি, ২০২৬

বাংলা তারিখ

৯ মাঘ, ১৪৩২
তিথি শুরু

২২ জানুয়ারি, রাত ২:২৮

তিথি শেষ

২৩ জানুয়ারি রাত ১:৪৬

পূজার সময়

২৩ জানুয়ারি সকাল ৭:১৫-১২:৫০

বিশেষ আকর্ষণ

বাগদেবীর আরাধনা ও পুষ্পাঞ্জলি

সরস্বতী পূজা কেন পালন করা হয়?

সরস্বতী পূজা পালন করার পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, মা সরস্বতী হলেন জ্ঞান, বিদ্যা, বুদ্ধি, সংগীত, শিল্প আরাধনা এবং বীণার দেবী। তাই তার পূজা করলে জীবনে জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা লাভ হয়। দেবী সরস্বতীর আশীর্বাদ লাভের জন্যই বসন্ত পঞ্চমীর দিন এই পূজা করা হয়। আর এই দিন ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনার উন্নতি এবং মনোবাসনা পূরণের জন্যই দেবীর আরাধনা করে থাকে।

সরস্বতী পূজা ও বসন্ত পঞ্চমীর সম্পর্ক

জানিয়ে রাখি, বসন্ত পঞ্চমী উদযাপনের পিছনে অনেক পৌরাণিক গল্প প্রচলিত রয়েছে। জানা যায়, বসন্ত পঞ্চমী ঐতিহ্যগতভাবেই দেবী সরস্বতীর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। আর তিনি বিদ্যা, শিল্প এবং সংগীতের দেবী। কিন্তু পুরাণ মতে কামদেব অর্থাৎ প্রেমের দেবতা মহাদেব এবং দেবী পার্বতীকে এই দিন একত্রিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেছিলেন। যদিও এই দিনটিকে সরস্বতী পূজা উপলক্ষেই বাংলা সহ গোটা দেশে পালন করা হয়।

বসন্ত ঋতুর মূল উৎসব

সেই প্রাচীনকাল থেকেই বসন্ত পঞ্চমী প্রকৃতি এবং সৌন্দর্যের উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আর এই বিশেষ সময়ে গাছপালা নতুন পাতা এবং ফুল দিয়ে সুসজ্জিত হয়ে ওঠে। পাশাপাশি বসন্ত পঞ্চমীতে নতুন ফুল ফোটে আর আমের মুকুল আসে। তাই দেবী সরস্বতীকে এই দিন বন্দনা করা হয় পলাশ এবং আমের মুকুল দিয়ে। এমনকি বাসন্তী ভুবনমোহিনিকেও আবীর দিয়ে বন্দনা করা হয়।

সরস্বতী পূজা ২০২৬ মূল সামগ্রী

বসন্ত পঞ্চমীর দিন সকালে সরস্বতী পূজা করতে হয়। আর সাধারণ নিয়ম মেনে পূজা হলেও সরস্বতী পূজার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু সামগ্রী দরকার পড়ে। যেমন আমের পল্লব, আমের মুকুল, অভ্র, আবীর, দোয়াত, খাগের কলম, পলাশ ফুল, বই বীণা, কুল ইত্যাদি। এর পাশাপাশি পদ্মফুল এবং গাঁদা ফুলের মালাও প্রয়োজন পড়ে। কথিত রয়েছে, সরস্বতী পূজা সম্পন্ন হওয়ার আগে পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কূল খেতে নেই। স্কুল, কলেজ বা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাগদেবীর আরাধনা করে অঞ্জলি দেওয়ার পরেই ছাত্র-ছাত্রীরা কুল খায়। এই রীতি বহুদিন ধরেই প্রচলিত।

সরস্বতী পূজার নিয়ম বিধি

সরস্বতী পূজার দিন বিশেষ কিছু নিয়ম মেনেই পূজা করতে হয়। তাহলে মায়ের কৃপা বর্ষিত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। যেমন—

  • স্নান এবং পোশাক: খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেই এদিন স্নান সেরে হলুদ রঙের পোশাক পড়ে নিতে হয়।
  • পূজার স্থান: তারপর দেবীর মূর্তি স্থাপন করে আমের পাতা, কলা, ফুল, ধূপ, হলুদ, কুমকুম, চাল বা অন্যান্য পূজার সামগ্রী আয়োজন করতে হয়।
  • মন্ত্র জপ: তারপর পূজার সময় মা সরস্বতীর নির্দিষ্ট মন্ত্র জপ করতে হয়।
  • পুষ্পাঞ্জলি: এরপর নির্দিষ্ট যে পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র রয়েছে সেগুলো সেটি পাঠ করতে হয়
  • ভোগ নিবেদন: পূজা সম্পন্ন হলে প্রধান ভোগ হিসেবে খিচুড়ি, মিষ্টি বা ফল ইত্যাদি নিবেদন করতে হয়।
  • নতুন করে আবার পড়াশোনায় যোগ: পূজা শেষ হলে অর্থাৎ পূজার পর দিন সকালে বিল্লপত্রে বা কাগজে মা সরস্বতীর নাম লিখেই পড়াশোনা শুরু করতে হয়।

সরস্বতী পূজা ২০২৬-এ কী করা নিষেধ?

সরস্বতী পূজার দিন মোটেও নিম্নলিখিত কাজগুলি করবেন না। নাহলে পরিবার থেকে শুরু করে নিজের উপর অমঙ্গল নেমে আসবে—

  • চুল বা নখ কাটা: পূজার দিন ভুলেও সকালে  চুল-নখ কাটবেন না। যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে আগের দিন কাটুন বা একদিন পরে কাটুন।
  • সেলাইয়ের কাজ: সরস্বতী পূজার দিন সেলাইয়ের কাজ মোটেও করবেন না।
  • আমিষ বা মদ্যপান: সরস্বতী পূজার দিন আমিষ খাবার খাওয়া এবং মদ্যপান সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন। শুধুমাত্র নিরামিষ আহার গ্রহণ করুন।
  • খারাপ ভাষা বা ঝগড়া: সরস্বতী পূজার দিন অপশব্দ ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন এবং ঝগড়া-বিবাদ থেকে বিরত থাকুন।
  • কুল খাওয়া: শ্রীপঞ্চমীর আগে মোটেও কুল খাবেন না। কারণ, এই দিন দেবী সরস্বতীকে কুল নিবেদন করতে হয়।
  • লেখাপড়া বা শিল্পকর্মের ব্যবহার: বই, খাতা, কলম, বাদ্যযন্ত্র ইত্যাদি পূজার দিন দেবীর কাছে নিবেদন করতে হয়। তাই পূজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এগুলি ব্যবহার করবেন না।
  • গাছ কাটা: সরস্বতী পূজার দিন গাছ কাটা থেকে বিরত থাকুন। নাহলে পরিবারে অমঙ্গল হবে।

আরও পড়ুন: ২০২৬ এ মকর সংক্রান্তি কত তারিখে পড়ছে? রইল দিনক্ষণ, সময়সূচী ও নিয়মকানুন

মা সরস্বতীর পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র বা মূল মন্ত্র ১

বসন্ত পঞ্চমী অর্থাৎ সরস্বতী পূজার দিন মায়ের পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট একটি মন্ত্র রয়েছে। আর এটি জপ করেই প্রত্যেকে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে থাকে। মন্ত্রটি হল—

জয় জয় দেবী। চরাচর সারে।
কুচযুগ শোভিত মুক্তাহারে।।
বীনা পুস্তক রঞ্জিত হস্তে।
ভগবতী ভারতী দেবী নমোহস্তুতে।।

মা সরস্বতীর মূল মন্ত্র ২

ওঁ ভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং।
সরস্বত্যৈ নমো নমঃ।
বেদ-বেদান্ত-বেদাঙ্গ-বিদ্যাস্থানেভ্যঃ এব চ।।
এষ স-চন্দন বিল্বপত্র পুষ্পাঞ্জলিঃ ওঁ ঐং শ্রী শ্রী সরস্বত্যৈ নমঃ।।

মা সরস্বতীর প্রণাম মন্ত্র ১

নমো সরস্বতী মহাভাগে।
বিদ্যে কমললোচনে।
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী।
বিদ্যাংদেহী নমোহস্তুতে।।

মা সরস্বতীর প্রণাম মন্ত্র ২

জয়জয় দেবী চরাচর সারে।
কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
বীণারঞ্জিত পুস্তক হস্তে।
ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে।।

আরও
google button