ফের বদলাতে পারে SIR-এর সময়সীমা

Published:

SIR Hearing Deadline

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে এলেও SIR নিয়ে জট যেন কিছুতেই কাটছে না। কখনও খসড়া তালিকা নিয়ে তৈরি হচ্ছে গণ্ডগোল তো কখনও আবার SIR শুনানি নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক। এমতাবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় এবার গুরুত্বপূর্ণ বদলের ইঙ্গিত দিল নির্বাচন কমিশন। যার জেরে ১৪ ফেব্রুয়ারি যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা ছিল, সেই তারিখটিও পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বদলাতে পারে শুনানির (SIR Hearing Deadline) সময়।

বদলাতে পারে SIR প্রক্রিয়ার ডেডলাইন!

টিভি ৯ বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমবার এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বাড়ার পর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্দিষ্ট দিন হিসেবে তালিকা প্রকাশের কথা জানিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর সেই অনুযায়ী, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষ করার কথা। কিন্তু সম্প্রতি SIR শুনানি প্রক্রিয়ায় একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। যার ফলে ১০ দফা নির্দেশিকা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শুধু তাই নয়, লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি সংক্রান্ত তালিকা প্রকাশ করারও নির্দেশ দেওয়া হয় নির্বাচন কমিশনকে। গ্রামের ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিসে, এবং শহরাঞ্চলে ক্ষেত্রে ওয়ার্ড অফিসগুলিতে ওই তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তাই সময়ে কাজ শেষ হবে না। ফলস্বরূপ ফের বাংলায় বদলে যেতে পারে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার ডেডলাইন!

একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি সুপ্রিম কোর্টের

জানা গিয়েছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি সংক্রান্ত তালিকায় ওঠা ভোটারদের কাছ থেকে তথ্য জমা নেওয়ার পর রিসিভ কপি দেওয়ার কথা বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়েছে, নথি বা আপত্তি পঞ্চায়েত অথবা ব্লক দফতরে জমা দেওয়া যাবে। এক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা নিজেদের অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নথি বা আপত্তি জমা দিতে পারবেন। তবে এর জন্য স্বাক্ষর যুক্ত একটি অনুমতিপত্র থাকতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও আইনশৃঙ্খলার সমস্যা না হয় তা দেখতে হবে রাজ্য পুলিশের ডিজি, প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসককে। তাই এই একগুচ্ছ নির্দেশ মানতে গিয়ে সময় লাগতে পারে কমিশনের। সেক্ষেত্রে বদলাতে পারে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও।

আরও পড়ুন: ভোটের আগেই বন্ধ হাজার হাজার মহিলার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কারণ জানেন?

প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করে এসেছেন, সময় নিয়ে এসআইআর করা হোক। চিঠিও লিখেছেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। কিন্তু কোনও কথাই শোনেনি কমিশন। দ্রুত গতিতে কাজ এগোনোর জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে BLO কর্মীদের। গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশ হয়েছিল। একই সঙ্গে ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে শুনানি প্রক্রিয়া। সেক্ষেত্রে ১৪ ফেব্রুয়ারি আদতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে কি না তা নিয়ে সকলেই বেশ সংশয়ে রয়েছে।

google button