প্রশ্ন ভুল, তবু ১০০ টাকা ফি! SSC-র বিরুদ্ধে সরব হাইকোর্ট

Published:

Wrong Question Allegation Issue
Follow

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের SSC-র বিরুদ্ধে উঠে এল গুরুতর অভিযোগ! জানা গিয়েছে দ্বিতীয় এসএলএসটি পরীক্ষায় প্রশ্ন ভুল (Wrong Question Allegation Issue) এবং সেই ভুল চ্যালেঞ্জ করার জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া নিয়ে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। জানা গিয়েছে সেই প্রশ্ন ভুল কি না, খতিয়ে দেখার জন্য আর্জি জানানো প্রার্থীদের থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, সোমবার তা হলফনামা দিয়ে জানতে চাইল কলকাতা হাই কোর্ট। বেঁধে দেওয়া হল সময়সীমা।

মামলার প্রেক্ষাপট

রিপোর্ট মোতাবেক, গত ৭ সেপ্টেম্বর নবম-দশম এবং ১৪ সেপ্টেম্বর একাদশ-দ্বাদশের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। এর কিছুদিনের মধ্যেই কমিশন তাদের উত্তরপত্র প্রকাশ করে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পরীক্ষার্থীর যদি মনে হয় যে কমিশনের দেওয়া উত্তর ভুল, তবে তিনি সেটি চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। এদিকে এসএসসির দ্বিতীয় এসএলএসটি পরীক্ষায় ২৪টি প্রশ্ন ভুল রয়েছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছিল। তার ভিত্তিতে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন চন্দন ধর-সহ পরীক্ষার্থীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, প্রশ্ন ভুলের আপত্তি জানাতে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশ্ন প্রতি ১০০ টাকা করে নিয়েছে এসএসসি। অথচ আইনে এমন টাকা নেওয়ার কোনও বিধান নেই। আর তাই নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক।

দুই পক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ

মামলাকারীর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, ” প্রিলিমিনারি মডেল উত্তরপত্র প্রকাশ করার পর এবং সেখানে ভুল দেখার পর স্কুল সার্ভিস কমিশনে অভিযোগ জানানোর জন্য ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।” অন্যদিকে SSC-র আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য দাবি করেন যে, “মামলাকারীরা ৬৭ জন এডুকেশন বিষয়ের প্রার্থী। তাঁদের দাবি ছিল, কিছু প্রশ্নের উত্তরে নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন ভুল করেছে। তার সঙ্গে এই দাবির যোগ নেই তাই মামলা খারিজ করে দেওয়া উচিত।” মামলাকারীর আইনজীবীর অভিযোগ আসলে পরীক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব করার জন্যই এমন পদক্ষেপ করেছে এসএসসি। দুই পক্ষের অভিযোগ শোনার পর সোমবার হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, আইনে না থাকলে কিসের ভিত্তিতে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে তাহলে এসএসসি?

কী বলছে হাইকোর্ট

রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ সোমবার বিচারপতি অমৃতা সিংহ জানতে চান, প্রশ্ন ভুল নিয়ে এসএসসি প্রার্থীদের থেকে কত টাকা তুলেছে? আর শর্ত অনুযায়ী, প্রশ্নে ভুল প্রমাণিত হওয়ার পরে প্রার্থীদের কত টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে? শেষপর্যন্ত কত প্রশ্ন ভুল প্রমাণিত হয়েছে? এই সংক্রান্ত বিষয়ে কতগুলি অভিযোগ জমা হয়েছে? আর এই সব প্রশ্নের উত্তর আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এসএসসি-কে আদালতে দিতে হবে বলে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও স্কুল সার্ভিস কমিশন কিসের ভিত্তিতে প্রার্থীদের থেকে টাকা নিয়েছে তাও জানাতে হবে বলে।

আরও পড়ুন: গ্র্যাচুইটির টাকা নিয়ে বড় ঘোষণা নবান্নর

প্রসঙ্গত, হাজার হাজার পরীক্ষার্থী যারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের আশায় বসে আছেন, তাঁদের কাছে এই ভুল প্রশ্নের বিড়ম্বনা এক নতুন উপদ্রব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ প্রশ্ন ভুলের জন্য মেধা তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার ওপর প্রশ্ন চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে বিপুল টাকা খরচ হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের মধ্যে। এখন দেখার পালা কমিশনের তরফে পেশ করা রিপোর্টে কী কী তথ্য উঠে আসে।