প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। তাইতো ভোটের প্রচারে এখনই ময়দানে নেমেছেন প্রার্থীরা। জনসংযোগ বৃদ্ধিতে যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে নজর রাখছে সকলে। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রেড রোডে ইদের পবিত্র সকালে সম্প্রীতি বার্তার পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তা দিলেন। শুধু তাই নয়, এসআইআর থেকে ধর্মীয় মেরুকরণ নিয়ে কমিশন এবং বিজেপি সরকারকে সরাসরি আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
রেড রোডে মমতা
রিপোর্ট মোতাবেক আজ অর্থাৎ শনিবার সকালে প্রতি বছরের মতো ঈদের অনুষ্ঠান উপলক্ষে রেড রোডে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। আর সেখান থেকেই সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি সুর চড়ালেন মমতা। সম্প্রীতির আবহে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা জানান যে, “SIR-এ বহু মানুষের নাম কাটা হয়েছে, অনেক নাম এখনও বিচারাধীন। আপনাদের জন্য আমার লড়াই চলবে। বাংলার সব মানুষের সঙ্গে আছি। আমি সব ধর্মের মানুষের পাশে আছি। আমাদের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।”
বিজেপি-কমিশনকে হুঁশিয়ারি মমতার
রাজ্যে SIR-এর চূড়ান্ত তালিকায় লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদে বিজেপির কারসাজিকে তুলে ধরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মোদীকে আমাদের অধিকার নিতে দেব না। নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের হয়ে কাজ করছে।” এরপরেই বিজেপিকে ‘চোর-ডাকাত-গুণ্ডাদের দল’ বলে কটাক্ষ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “যারা বাংলাকে টার্গেট করছে, তারা জাহান্নামে যাক।” এদিন রেড রোডের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা তৃণমূলনেত্রী। মমতার হুঙ্কার, ‘আপনি সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী। উনি দুবাই গিয়ে হাত মেলান তখন প্রভাব পড়ে না ওরা হিন্দু না মুসলিম। ভারতে এসেই সব ভুলে যান।”
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের DA বিজ্ঞপ্তিতেও ভিজল না চিঁড়ে, এবার কলকাতা হাইকোর্টে নতুন মামলা
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ভারত সরকার, অমিত শাহর অফিস, নরেন্দ্র মোদির অফিস ফোন করে করে যাকে পারছে হুমকি দিচ্ছে। আর বলছে এখানে ২০ লক্ষ জওয়ান পাঠাও। তারা নাকি ভোটের ভিতরে গিয়ে ছাপ্পা দেবে। পরিকল্পনা অনেক। আবার যাতে বাংলার পুলিশ ধরতে না পারে, সেজন্যই কতগুলো পেটোয়া লোককে আগমন করেছে। কুচো থেকে পোনা, রুই থেকে পুঁই সব বসে থাকবে। তারা তো বাংলার সব খেয়ে নেবে।’ বিধানসভা ভোটের আবহে ঈদের দিনে মুখ্যমন্ত্রীর এই হুংকার স্বাভাবিকভাবে বড় প্রভাব পড়বে বলে আশা করছে রাজনৈতিক মহল।












