প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) প্রাক্কালে রাজ্য জুড়ে উত্তেজনার পারদ বেশ বেড়েছে। চারিদিকে এখন নেতা, মন্ত্রীদের প্রচার হয়েই চলেছে। আর এই অবস্থায় আসানসোল পুরনিগমের কালীপাহাড়ি এলাকায় একটি প্রাচীন মন্দিরে দুষ্কৃতি তান্ডবের (Temple Vandalism In Asansol) ঘটনা ঘটল। অভিযোগ মন্দিরের ভেতরে একাধিক মূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। জানা গিয়েছে স্থানীয়দের সঙ্গে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। আর সেই খবর পেয়ে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ছুটে আসে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার, দুপুরে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা, মণ্ডল ৩-এর কালিপাহাড়ী এলাকায় এক ন্যক্কারজনক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানকার শিব মন্দিরের নিকটে বজরংবলির মন্দিরে বেশ কিছু দুষ্কৃতী ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয় মা কালীর মূর্তি সরিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে মা শীতলার মূর্তি ভেঙে দেওয়ার মতো একাধিক ঘটনাও ঘটেছে, যা হিন্দু ধর্মের ওপর বড় আঘাত হানে। আর সেই ঘটনার প্রতিবাদে এবার আসানসোলের জিটি রোড অবরোধ করে প্রতিবাদে ফেটে পড়ল সাধারণ মানুষ। যোগদান করেন বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালও।
কী বলছেন অগ্নিমিত্রা পাল?
রাস্তায় সাধারণ মানুষদের সঙ্গে বসে অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেন, “আসানসোলের এই ঘটনা শুধু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত নয়, সমাজের শান্তি-সম্প্রীতির ওপরও বড় আঘাত এনে দিয়েছে। তাই ধর্মীয় স্থান ও বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। আমি এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। দোষীদের গ্রেফতার না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।” এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বাধ্য হয়ে এলাকায় হাজির হয় আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ। অন্যদিকে ঘটনার খবর পেয়ে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মীনা কুমারী হাঁসদাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
জনগণকে শান্ত থাকার বার্তা কাউন্সিলরের
কাউন্সিলর মীনা কুমারী হাঁসদা বলেন, “যারা এই কাজ করেছে, তারা নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করেছে। আমি অবিলম্বে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। যাতে অপরাধীদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গ্রেপ্তার করা যায় এবং এই ধরনের ঘটনা আটকানো সম্ভব হয়।” এদিকে ওয়ার্ড সভাপতি মনোজ হাজরা জনগণকে শান্ত থাকার জন্য আবেদন জানান। শেষে স্থানীয় বাসিন্দারাও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে যেকোনো ধরনের গুজব থেকে বিরত থাকার ও প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবং অবরোধও তুলে দেওয়া হয়েছে।
কিছুদিন আগেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের চেলোদ এলাকায় প্রচারে বেরিয়ে ছিলেন বিদায়ী বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। কিন্তু গ্রামের লোকদের সাড়া না পেয়ে রীতিমত বিব্রত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ভয় ও সন্ত্রাসের রাজত্ব করে চলেছে রাজ্য জুড়ে। যদিও সেই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একদিকে বিজেপি যখন ‘সন্ত্রাস’ ও ‘ভয়ের পরিবেশ’কে হাতিয়ার করছে, অন্যদিকে তৃণমূল ‘উন্নয়ন’ ও ‘জনসংযোগ’কেই জয়ের চাবিকাঠি হিসেবে মনে করছে।












