প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: হাতে আর এক মাসও সময় বাকি নেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026), কিন্তু এখনও কাটছে না SIR প্রক্রিয়ার জট। গত সোমবার থেকে ফর্ম ৬ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এক ব্যক্তি ব্যাগ ভর্তি ফর্ম ৬ নিয়ে ঢুকেছে ইসি অফিসে, এই অভিযোগ তুলেছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তারপরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক, মঙ্গলবারেরও ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় CEO দপ্তরে (CEO Office)। এমনকি, আজ সকাল থেকে চাপা উত্তেজনা রয়েছে সিইও দপ্তরের সামনে।
ফর্ম ৬ নিয়ে উত্তাল অবস্থা সিইও দপ্তরের সামনে
গত সোমবার থেকে ফর্ম ৬ নিয়ে উত্তাল অবস্থা বঙ্গ রাজনীতিতে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ বিজেপি আর কমিশন মিলে ব্যাকডোর পলিসিতে ভিন রাজ্যের ভোটার ঢুকিয়ে ভোট লুটের চেষ্টা করছে। আর এই অভিযোগের ভিত্তিতে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়েরও হয়েছে। ঘটনার জেরে নির্বাচন দপ্তরের সামনে বিক্ষোভে নামেন শাসকদলের কর্মী-সমর্থকেরা। গতকাল সিইও দপ্তরের সামনে বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। বিজেপির তরফেও সেখানে অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী , শমীক ভট্টাচার্যরা। কিন্তু বিজেপি-তৃণমূল বচসায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সেখানে। শেষে বাধ্য হয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
কড়া বার্তা কমিশনের
মঙ্গলবার সারারাত কমিশনের দফতরের বাইরে পাহারা দিয়েছেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। অন্যদিকে গতকাল মধ্যরাতে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা সিইও দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ধরনা দেখিয়েছিলেন বলে কমিশনের তরফেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। এক্স হ্যান্ডেলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ‘এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না’। কিন্তু এই বার্তার পরেও আজ ফের সকাল থেকে সিইও দপ্তরের বাইরে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হয়েছেন। শুরু হয়েছে অবস্থান। তাই এক্ষেত্রে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না হয় তা এড়াতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় জওয়ানদের মোতায়ন করা রয়েছে।
আজও ধরনায় বসেছে শাসকদল
তৃণমূল শিবিরের দাবি, তাঁদের কাছে স্পষ্ট ‘ভিডিও প্রমাণ’ রয়েছে যে বিজেপি নেতৃত্ব আজও নিয়মবহির্ভূতভাবে বস্তাভর্তি ফর্ম জমা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাঁদের অভিযোগ, গতকালের মতো আজও ভিনরাজ্যের বাসিন্দাদের বাংলার ভোটার তালিকায় ঢোকানোর যে প্রচেষ্টা চলছিল, হাতেনাতে তার প্রমাণ মিলেছে। এই ‘জালিয়াতি’ রুখতে এবং স্বচ্ছতার দাবিতেই ফের ধরণার পথ বেছে নিয়েছে শাসকদল। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিসিটিভি এবং ড্রোন-নজরদারি চালানো হচ্ছে বলেও খবর। স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কাজে ব্যাঘাত ঘটানো বা আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ভোটের আগে বাড়ল চাপ, ঋণকাণ্ডে সোহমকে নোটিস হাইকোর্টের
প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ফর্ম-৬ ব্যবহার করা হয় । এই ফর্মটি প্রধানত দুটি ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এক, যাঁরা প্রথম বারের মতো ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করছেন আর দুই, যাঁরা এক সংসদীয় বা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে অন্যটিতে বাসস্থান পরিবর্তন করছেন। বয়স এবং বাসস্থানের প্রমাণস্বরূপ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র-সহ এই ফর্মটি জমা দিলেই সেই রাজ্যের ভোটার হিসেবে নিযুক্ত হওয়া যায়। তাই অভিষেক দাবি করেছেন, সেই ফর্ম নিয়ে সরাসরি সিইও দফতরে গিয়েছিলেন বিজেপির কিছু লোক। তাই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটের আগে রাজনৈতিক আবহ আরও গরম হয়ে উঠেছে।












