সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার ভারতের পরমাণু শক্তি খাতে (Nuclear power in India) নতুন অধ্যায় তৈরি হতে চলেছে। তামিলনাড়ুর কলপক্কমে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর সফলভাবে কাজ শুরু করতেই এখন গোটা বিশ্বজুড়ে প্রশংসার জোয়ার বইছে। তবে সবথেকে বড় ব্যাপার, ভারতের এই অভাবনীয় সাফল্যে রাতের ঘুম উড়েছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের (Pakistan)। ইসলামাবাদে দাবি, এই নতুন প্রযুক্তির ফলে ভারত এখন আগের থেকে বহুগুণ দ্রুতগতিতে ‘ওয়েপন-গ্রেড’ প্লুটোনিয়াম উৎপাদন করতে পারবে।
বিস্ফোরক দাবি পাকিস্তানের
পাকিস্তানের স্ট্রাটেজিক প্ল্যান ডিভিশনের সদস্য এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রক বিষয়ক উপদেষ্টা জহির কাজমি সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ভারতের এই কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, এই PFBR প্রযুক্তির ফলে ভারতের হাতে থাকা আটটি ভারী জলচালিত রিঅ্যাক্টর একযোগে কাজ করলে ভারত বছরে আনুমানিক ৩০০টি প্লুটোনিয়াম পরমাণু বোমা তৈরি করতে পারবে। এমনটি ভারতে বর্তমান এবং আগামী দিনের অগ্নি-৫, অগ্নি-৬ মিসাইলগুলি ইউরোপের অভ্যন্তরেও আঘাত হানতে পারে, যা গোটা বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।
জহির কাজমির বক্তব্যে সবথেকে বেশি ফুটে উঠছে ভারতের নৌ শক্তির প্রতি ভয়। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের পারমাণবিক শক্তিচালিত এবং পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম অরিহন্ত ক্লাসের সাবমেরিনগুলি সমুদ্রের গভীরে ভারতের অবস্থান পাকাপোক্ত করছে। এমনকি K-4 SLBM মিসাইল সজ্জিত আইএনএস অরিঘাটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ৩৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারত মহাসাগরের সীমা ছাড়িয়ে অনেক দূরে আঘাত হানতে পারে।
বছরে উৎপন্ন হবে ১৭০ থেকে ৯০০ কেজি প্লুটোনিয়াম
পাক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মনসুর আহমদের মতে, ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি PFBR চালু হওয়ার ফলে ভারতের বার্ষিক প্লুটোনিয়াম উৎপাদন একেবারে ২৬ কেজি থেকে সরাসরি ১৭০ কেজিতে পৌঁছে যাবে। এমনকি ভবিষ্যতে আরও পাঁচটি এরকম রিঅ্যাক্টর তৈরি হলে ভারত বছরে ৯২১ কেজি ওয়েপন-গ্রেড প্লুটোনিয়াম উৎপন্ন করতে পারবে। যা দিয়ে বছরে আনুমানিক ৩০০ টি পরমাণু ওয়ারহেড বানানো সম্ভব।
আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে পবিত্র করকে দেখে ‘মাটি চোর’ বলে স্লোগান, ভাইরাল ভিডিও
এদিকে যেখানে পাকিস্তান ভারতের এই সিভিল নিউক্লিয়ার প্রোগ্রামকে দানব হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করছে, ঠিক সেখানেই বিশ্বের তাবড় তাবড় পরমাণু বিজ্ঞানীরা ভারতের এই কৃতিত্বকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন। প্রসঙ্গত, ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি অত্যন্ত জটিল। আর ভারত বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি, যারা এই প্রযুক্তি সফলভাবে প্রয়োগ করছে। এমনকি ভারত বরাবরই তার পরমাণু শক্তিকে শান্তির কাজে পরিচালনা করে। এখন দেখার এই শক্তিখাত কতটা শক্তিশালী হয়।












