সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ পেনশন (Pension), সরকারি স্কিম চালানো নিয়ে হাইকোর্টের ভর্ৎসনার মুখ পড়ল রাজ্য সরকার। দরকারের স্কিম বন্ধ করে যোগ্যদের পেনশন দেওয়ার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি। হ্যাঁ এমনই এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটল রাজ্যে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের তাদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করলে তা অগ্রহণযোগ্য হবে। চলুন আরও বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
আদালতের ভর্ৎসনার মুখে রাজ্য সরকার
আসলে সম্প্রতি বোম্বে হাইকোর্ট স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিয়েছে যে, তহবিলের অভাবের অজুহাতে সরকার বা পৌর প্রশাসন পেনশন এবং বকেয়া সুবিধা প্রদান এড়াতে পারে না। আদালত এও বলেছে যে, যদি টাকা না থাকে, তবে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প যেমন লড়কি বাহিন যোজনা বন্ধ করুন বা অফিসের সম্পত্তি বিক্রি করে দিন, কিন্তু কর্মচারীদের তাদের অধিকার অবশ্যই দিতে হবে। সপ্তম বেতন কমিশন বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ এক অবসরপ্রাপ্ত মহিলা কর্মচারীর দায়ের করা একটি আবেদনের শুনানির সময় এই মন্তব্যটি করে আদালত।
বিষয়টি কী?
মুম্বাই পৌর কর্পোরেশনের শিক্ষা বিভাগের একজন মহিলা কর্মচারী অবসর গ্রহণের পরেও সপ্তম বেতন কমিশন অনুযায়ী পেনশন এবং অন্যান্য বিধিবদ্ধ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আবেদনে বলা হয় যে, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও পৌর কর্পোরেশন এবং সরকার কেবল তহবিলের অভাবের কথা বলে তাঁর জীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে। তবে তিনি দমে যাওয়ার পাত্রী নন। সোজা মামলা করেন আদালতে।
শুনানির সময় আদালত প্রশাসনের দ্বৈত নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে। আদালত প্রশ্ন তুলেছে, রাজ্য সরকারের অর্থায়নে সপ্তম বেতন কমিশন অনুযায়ী অতিরিক্ত পৌর কমিশনাররা কেন পূর্ণ বেতন পাচ্ছেন, অথচ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের ক্ষেত্রে হঠাৎ তহবিলের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। আদালত বলেছে যে, অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশগুলো কার্যকর থাকা সত্ত্বেও সপ্তম বেতন কমিশনকে অমীমাংসিত রাখা একটি গুরুতর অবহেলার ঘটনা।
আরও পড়ুনঃ মাত্র ৩ ঘন্টায় পৌঁছবেন ঋষিকেশ! নমো ভারত এক্সপ্রেস নিয়ে বড় আপডেট
আদালত স্পষ্টভাবে বলেছে যে, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মচারীদের পেনশন ও প্রাপ্য সুবিধা প্রদানের জন্য সরকারের কাছে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকলে, ‘লড়কি বাহিন ‘-এর মতো প্রকল্পগুলি বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার। কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং একটি আইনগত অধিকার। আদালত এখানেই থেমে থাকেনি। আদালত কঠোরভাবে বলেছে যে, পেনশনের জন্য তহবিল না থাকলে পৌরসভাগুলোকে তাদের ডেস্ক, চেয়ার, এমনকি এয়ার কন্ডিশনারও বিক্রি করে দিতে হবে। প্রয়োজনে কমিশনারের গাড়ি এবং অন্যান্য সরকারি যানবাহনও বিক্রি করা যেতে পারে, কিন্তু কর্মচারীদের যেকোনো মূল্যে তাদের প্রাপ্য পরিশোধ করতে হবে। আদালত পৌরসভার অতিরিক্ত কমিশনারকে পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা কেন এখনও পরিশোধ করা হয়নি, তা ব্যাখ্যা করে একটি বিস্তারিত হলফনামা দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।












