আমেরিকার মিসাইলকে বলে বলে গোল দেবে ভারতের বেবি ব্রহ্মোস, জানুন বিশেষত্ব

Published:

Pinaka multi barrel rocket launcher Know As Baby Brahmos
Follow

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: যুদ্ধের জন্য ভাল ক্ষেপণাস্ত্র মানেই আমেরিকার দামি দামি সব মিসাইল। বিশ্বের বাজারে এই ধারণা এবার বদলে দিতে চলেছে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং উন্নয়ন সংস্থা বা DRDO। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এমন এক অস্ত্র (Pinaka Multi Barrel Rocket Launcher) তৈরি করেছে যা ক্ষমতার দিক থেকে প্রায় আমেরিকার মিসাইলকে সমানে সমানে টক্কর দেয়! কিন্তু দামে অনেকটাই কম। এক কথায়, যাকে বলে একেবারে সস্তায় পুষ্টিকর খাদ্য। তাই অল্প দামে খতরনাক মিসাইল পেতে ভারতমুখী হচ্ছে বিশ্বের বহু দেশ।

ভারতের বেবি ব্রহ্মোসের উপর নজর গোটা বিশ্বের!

দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা DRDO যে অসাধারণ ক্ষমতাশালী পিনাকা রকেট সিস্টেম তৈরি করেছে, সেটাকেই গোটা বিশ্ব চিনছে বেবি ব্রহ্মোস বলে। প্রথমবারের মতো কার্গিলের যুদ্ধে ব্যবহৃত এই ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধের রঙ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। সম্প্রতি অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ক্ষমতা দেখিয়েছিল ভারতের ব্রহ্মস মিসাইল। এই ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্যের সাথেই পিনাকার মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। সবচেয়ে বড় কথা, পিনাকার একেকটি ইউনিটের দাম মাত্র 2 কোটি 30 লাখ টাকা। তাহলে বেশি দাম দিয়ে আমেরিকার কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র কেন কিনবে বাকি দেশগুলি?

হিসেব বলছে, আমেরিকার হি-মার্স রকেট সিস্টেমের একটির দামে একসাথে 10টি পিনাকা রকেট সিস্টেম কেনা যাবে। তবে দামে কম হলেও মানে ভাল এই ক্ষেপণাস্ত্র। বদলা নেওয়ার ক্ষেত্রে শত্রুর উপর ভারী হয়ে উঠতে পারে এটি। এখন প্রশ্ন থাকে, কেন পিনাকার উপর নজর পড়েছে বিশ্বের বাকি দেশগুলির? বলে রাখি, ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার বিজ্ঞানীরা নতুন করে পিনাকার যে সংস্করণ তৈরি করেছে তা মাটি থেকে নয় বরং আকাশ থেকে ছোড়া যাবে। যেখানে আমেরিকার হিমার্স এখনও মাটি থেকেই ছোড়া যায়।

এখানেই শেষ নয়, এই পিনাকা সিস্টেমের দৈর্ঘ্য কমিয়ে 4.8 মিটার করা হয়েছে। যার ফলে এটি সহজেই যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা যায়। সবচেয়ে বড় কথা আকাশ থেকে এটি নিক্ষেপ করার পর বাতাসে গ্লাইড করতে করতে এগোয় এটি। যার ফলে মাঝপথে এর গতিপথ বদলে দেওয়া যায়। এর জেরে সহজে এটিকে শত্রুরা নিজেদের ফাঁদে ফেলতে পারে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শত্রুর ট্যাঙ্ক বাহিনী, গোপন আস্তানা থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমানের রানওয়ে সহ একাধিক বস্তু গুঁড়িয়ে দিতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করা একপ্রকার অসম্ভব।

বলে রাখি, পিনাকা একটি মাল্টি ব্যারেল রকেট লাঞ্চার সিস্টেম হওয়ার কারণে একসাথে একাধিক মিসাইল নিক্ষেপ করা যায়। এতে রয়েছে 12টি রকেট সালভো, যেখানে আমেরিকার শক্তিশালী হিমার্স সিস্টেমের থাকে মাত্র ছয়টি। যদিও একদিক থেকে হিমার্সের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে পিনাকা। তা হল রেঞ্জ। মার্কিন মিসাইলটির রেঞ্জ এর থেকে অনেকটাই বেশি। তবে দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা চেষ্টা করছে যাতে বেবি ব্রহ্মোসের রেঞ্জ বাড়ানো যায়।

অবশ্যই পড়ুন: SIR-এ কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট? জানাল সুপ্রিম কোর্ট

প্রসঙ্গত, যেখানে একটি ব্রহ্মোস মিসাইলের দাম 35 থেকে 40 কোটি টাকা, সেই পর্বে দাঁড়িয়ে একটি বেবি ব্রহ্মোস পাওয়া যাবে মাত্র 2 কোটি 30 লাখ টাকায়। সবচেয়ে বড় কথা, ছোটখাটো অপারেশনের জন্য এত বেশি মূল্যের দানবীয় মিসাইল ব্রহ্মস ব্যবহার করা খানিকটা মশা মারতে কামান দাগার মতোই। সে কারণেই অল্প দামে উচ্চ ক্ষমতার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে গোটা বিশ্বকে নিজেদের দিকে টানতে চাইছে ভারত। কয়েকটি সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই নাকি ফ্রান্সের সেনাবাহিনী ভারতের এই ভয়ানক ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে।