আরও বিপদে মমতা! নতুন পদ পেয়েও ইস্তফা দিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক

Published:

Jyotipriya Mallick Resigns

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দলের নতুন দায়িত্ব পেয়েও হল না কাজ! এবার মমতার আস্থা ভেঙে দলের সমস্ত পদ ছাড়লেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriya Mallick Resigns)। ইতিমধ্যেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠিয়েছেন ইস্তফার চিঠি। জানা গিয়েছে, গত শনিবারই জ্যোতিপ্রিয় ওরফে বালুকে দলের জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্য করা হয়েছিল। কিন্তু সপ্তাহ পেরনোর আগেই ইস্তফা দিলেন দিদির প্রিয় পাত্র।

পদ থেকে ইস্তফা জ্যোতিপ্রিয়র

ক্ষমতা পরিবর্তন হতেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ করেই চলেছেন দলের নেতা মন্ত্রীরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন যাঁদের দলের বিশ্বস্ত স্তম্ভ বলে মনে করেছিলেন, তাঁরাই এখন একে একে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু। প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, কয়েকদিন আগেই উত্তর ২৪ পরগনার দায়ভার তাঁর হাতে সঁপেছিলেন দলনেত্রী মমতা। কিন্তু এবার দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ইস্তফার পত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন দলনেত্রীকে।

কী বলছেন তৃণমূল নেতা?

ইস্তফা প্রসঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানান , “আমার ৩৫০-এর উপর সুগার, কিডনি খারাপ হয়ে গিয়েছে। তাই এই অবস্থায় দলের কোনও কাজকর্মে আমি এখন যুক্ত থাকতে পারছি না। তাই সব পদ ছেড়ে দিলাম।” ১৯৯৮ সালে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা থেকেই দলের সঙ্গে ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের সঙ্গী ছিলেন তিনি। রেশন দুর্নীতি মামলায় জেল হেফাজতে থাকলেও বারবার মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘বালুকে ফাঁসানো হয়েছে।’ শুধু তাই নয়, এত কিছুর পরেও তাঁর উপর ভরসা রেখে ২৬ এর নির্বাচনে টিকিট দিয়েছিলেন মমতা। যদিও হেরে গিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: দার্জিলিং থেকে সুন্দরবনে কর্মসংস্থান-শিল্পায়ন, বাংলায় ২,৩০০ কোটি বিনিয়োগের ঘোষণা ITC-র

প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তর ২৪ পরগনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাকে ধরে রাখতে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ওপরই সবচেয়ে বেশি ভরসা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু নেত্রীর সেই বিশ্বাসের সার্টিফিকেটের মর্যাদা না দিয়ে খোদ প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের এভাবে দল ছেড়ে চলে যাওয়া তৃণমূলের কাছে বড় ধাক্কার বিষয়। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে শুধুই কি শারীরিক অসুস্থতা নাকি কোনও কেন্দ্রীয় চাপ এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।