হিজাব না পরে কনসার্ট করার অভিযোগ, ইরানি গায়িকা পরস্তূ আহমেদিকে বিরাট শাস্তি দিল আদালত

Published:

Parastoo Ahmadi

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ইরানে (Iran) ফের হিজাব বিতর্ক। নারীদের স্বাধীনতা নিয়েও উঠল বড় প্রশ্ন। ইরানি গায়িকা পরস্তূ আহমেদি (Parastoo Ahmadi) এবং তাঁর সঙ্গে কাজ করা আরও বেশ কয়েকজনের অনলাইন কনসার্টের অভিযোগে আদালত মোট ৭৪ টি করে বেত্রাঘাতের সাজা দিয়েছে বলে খবর। এমনকি শুধু তাই নয়, আগামী দুই বছর দেশের বাইরে যাওয়া ও কোনও ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করার উপরেও দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

কী অভিযোগ গায়িকার বিরুদ্ধে?

আসলে এই ঘটনাটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসের। অভিযোগ ওঠে, পরস্তূ আহমেদি ইউটিউবে একটি লাইভ কনসার্ট প্রকাশ করেছিলেন। আর সেখানে তাঁকে হিজাব ছাড়া এবং স্লিমলেস পোশাকে গান গাইতে দেখা যায়। প্রায় ২৭ মিনিট ধরে চলা ওই ভিডিওতে তিনি চারজন পুরুষ সংগীত শিল্পীর সঙ্গে পারফর্ম করেছিলেন। আর এই ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয় এবং বহু মানুষ সেটিকে নারী স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের প্রতীক হিসেবেই দেখেন। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে সেটিকে দেশের প্রচলিত নিয়মের বিরোধী বলেই মনে করা হয়।

এ বিষয়ে ইরানের কোম প্রদেশের একটি আদালত ওই ভিডিওকে স্বাধীনতা লঙ্ঘন এবং অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু প্রকাশের অভিযোগের আওতায় আনে। এমনকি আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরস্তূ আহমেদি এবং তাঁর সহযোগীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। ভিডিও প্রকাশের পরই ইরান কর্তৃপক্ষ গায়িকা এবং তাঁর কয়েকজন সংগীত শিল্পীকে কিছু সময়ের জন্য আটক করে রাখে। পরে তাঁদেরকে ছেড়ে দেওয়া হলেও আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এমনকি গায়িকার এই পদক্ষেপকে অনেকেই ইরানি নারীদের উপর থাকা কঠোর নিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবেও দেখেন।

আরও পড়ুন: বাড়িতে বসেই পেতেন মোটা বেতন, সেই শিক্ষকদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু সরকারের

উল্লেখ করে রাখি, ইরানে ১৯৬৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকেই নারীদের জন্য প্রকাশ্যে হিজাব পরা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও জনসমক্ষে নারীদের গান গাওয়া কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েও রয়েছে বিভিন্ন বিধিনিষেধ। এমনকি পরস্তূ আহমেদি আগেও হিজাব আইন নিয়ে আলোচনায় আসেন। ২০২২ সালের হিজাব বিরোধী আন্দোলনের সময়ও তাঁর নাম সামনে আসে। এমনকি দেশটিতে হিজাব আইন নিয়ে বহু বছর ধরেই চলছে বিতর্ক। কারণ, ২০২২ সালে ২২ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যুর পর থেকে দেশজুড়ে বিরাট প্রতিবাদ শুরু হয়। অভিযোগ ছিল, হিজাব ঠিক মতো না পরার কারণেই তাঁকে আটক করা হয়েছিল। আর তাঁর মৃত্যুর পর বহু নারী এই আইন পরিবর্তনের দাবি নিয়ে রাস্তায় নামেন। কিন্তু ইরান সরকার জানিয়েছিল, তাঁর মৃত্যু স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণেই হয়েছিল। সেই কারণেই এই বিধিনিষেধ বলবৎ থাকে।