১০০%-র দাবি মিথ্যে! বিভ্রান্তিকর মার্কেটিংয়ের বিরুদ্ধে অল-আউট অ্যাকশন সরকারের

Published:

Storia coconut Water and English Oven Bread

অনন্যা সরকার, নয়া দিল্লি: ভারতের উপভোক্তা সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সেন্ট্রাল কনজিউমার প্রটেকশন অথরিটি (CCPA) খাদ্যপণ্যের মোড়ক ও বিজ্ঞাপনের বিষয়ে নজরদারি জোরদার করেছে। পণ্যের লেবেলে ‘১০০%’-এর দাবির বিভ্রান্তিকর ব্যবহারের দায়ে তারা দুটি শীর্ষস্থানীয় প্যাকেটজাত খাদ্য প্রস্তুতকারী সংস্থাকে জরিমানা করা হয়েছে। বিভ্রান্তকর দাবি করার জন্য স্টোরিয়া ফুডস অ্যান্ড বেভারেজেস (Storia Food And Beverages) এবং মিসেস বেক্টরস ফুড স্পেশালিটিস (Mrs. Bectors Food Specialities)- উভয় কোম্পানিকেই ১ লাখ টাকা করে জরিমানা (Fine) দিতে হবে। একইসঙ্গে, তাদের প্যাকেট, ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য মার্কেটিং মেটিরিয়াল থেকে বিতর্কিত দাবিগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে সিসিপিএ।

দুই ব্র্যান্ডের লেবেলে বিভ্রান্তিকর দাবি 

নিয়ন্ত্রক সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে যে, ‘১০০%’ শব্দটি একটি সুনির্দিষ্ট বা ‘চূড়ান্ত দাবি’ হিসেবে গণ্য হয়। ফলে এর মাধ্যমে পণ্যের প্রকৃত উপাদান বা গঠনকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করা উচিত। সিসিপিএ-র বক্তব্য, যদি কোনো পণ্যে অতিরিক্ত উপাদান থাকে বা প্রোডাক্টটি দাবি করা বিষয়ের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে কেবল প্রচারের খাতিরে এমন দাবি করা যায় না।

স্টোরিয়ার প্রোডাক্ট লিস্ট পর্যালোচনার করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ ‘১০০% টেন্ডার কোকোনাট ওয়াটার’ (ডাবের জল) এবং ‘১০০% জুস’ হিসেবে মার্কেট করা কয়েকটি পণ্য পরীক্ষা করে। তারা দেখতে পায় যে, ডাবের জলটি মূলত ‘কনসেন্ট্রেট’ বা নির্যাস থেকে তৈরি এবং পরে তাতে জল মেশানো হয়েছে। এই তথ্যটি অত্যন্ত ছোট অক্ষরে উল্লেখ লেবেলে উল্লেখ করা হয়েছে, যে সহজেই ক্রেতাদের চোখ এড়াবে। এছাড়া, প্রিজারভেটিভ থাকায় পণ্যগুলোর ‘১০০% প্রাকৃতিক’ (100% Natural) হওয়ার দাবি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

আবার, স্টোরিয়ার ডালিম, আম, পেয়ারা এবং মিক্সড ফ্রুট জুসের লেবেল নিয়েও আপত্তি জানায় সিসিপিএ। সংস্থাটি এগুলিকে, ‘১০০% জুস’ হিসেবে বাজারজাত করলেও, এগুলোতে জল ও বিভিন্ন পরিমাণে ফলের পাল্প বা কনসেন্ট্রেট ব্যবহার করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, ‘মিসেস বেক্টরস ফুড স্পেশালিটিস’-এর ‘ইংলিশ ওভেন’ (English Oven) ব্র্যান্ডের পাউরুটি, বিশেষ করে ‘১০০% আটা ব্রেড’ এবং ‘১০০% হোল হুইট ব্রেড’ (সম্পূর্ণ গমের আটা দিয়ে তৈরি) নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। শুনানির সময় কোম্পানিটি স্বীকার করেছে যে, তাদের তৈরি পাউরুটিতে সম্পূর্ণ গমের আটার (whole wheat flour) পরিমাণ প্রায় ৮৭ শতাংশ, যা তাদের দাবি করা পরিমাণের চেয়ে কম।

আরও পড়ুনঃ বাজেটে বিদ্যুতের বিল ছাড়ের ঘোষণা, কাদের স্বস্তি দিল রাজ্য সরকার?

সিসিপিএ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ক্রেতারা সাধারণত এধরনের দাবিকে আক্ষরিক অর্থে মেনে নেন এবং বিজ্ঞাপনে যেমনটা বলা হয়েছে পণ্যের গুণমানও ঠিক তেমনই হবে বলে আশা করেন। কিন্তু সংস্থার মতে, মোড়কের অন্য কোনো অংশে ছোট অক্ষরে দেওয়া ব্যাখ্যা বা তথ্যগুলি প্যাকেটের ওপর হাইলাইট করা বিভ্রান্তিকর মূল দাবিগুলির প্রভাবকে যথেষ্ট পরিমাণে প্রশমিত করতে পারে না। এতেই ঠকেন গ্রাহকেরা।