প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে কনকনে ঠাণ্ডার দাপটে কাঁপছে গোটা কলকাতা। আর সেই শীতল আবহের মাঝেই এবার গঙ্গাসাগর মেলা (Gangasagar Mela 2026) নিয়ে জোর প্রস্তুতিতে নেমেছে নবান্ন। কুম্ভমেলার পরেই মূলত দেশের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় সমাগম হল এই গঙ্গাসাগর মেলা। এই সময় দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হয় সাগর তটে। তাই এবার সেই মেলায় ভিড়কে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সঠিক রাখতে বড় প্রস্তুতি শুরু করে দিল রাজ্য সরকার।
সড়কপথে পুণ্যার্থীদের জন্য একাধিক ব্যবস্থা
উল্লেখ্য, গত সোমবার নবান্নে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, মেলার আগে যাবতীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শেষ করতে হবে। এমনকি মেলায় কোনওভাবেই যাতে ‘ভিআইপি কালচার’ বরদাস্ত করা না হয় সেই দিকও নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল মমতা। এবার সেই নির্দেশ মেনেই পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে পূর্ত দফতর-সহ একাধিক দফতর মাঠে নেমে কাজ শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, সড়কপথে পুণ্যার্থীদের যাতায়াতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তার জন্য বাবুঘাট থেকে কাকদ্বীপ লট-৮ এবং সাগরের কচুবেড়িয়া থেকে গঙ্গাসাগর মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেটি ঘাটগুলির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু
এছাড়াও গঙ্গাসাগর মেলা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ কিলোমিটার রাস্তার মেরামত ও সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এবং বিকল্প পথ হিসেবে সাগরতট সংলগ্ন এলাকায় কিছু ছোট রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি মেলার সময় ভিড় সামাল দিতে লট-৮, বেণুবন ও কচুবেড়িয়ার জেটি ঘাটগুলির রক্ষণাবেক্ষণের কাজও শুরু হয়েছে। তৈরি হচ্ছে একাধিক অস্থায়ী জেটি, যা মেলার সময় ব্যবহৃত হবে। অন্যদিকে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা থেকে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের কিছু অংশ মেরামতের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেই কাজও জোরকদমে চলছে।
আরও পড়ুন: বাসন্তীতে তৃণমূল কর্মীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া TMC পঞ্চায়েত সদস্যের! ধরে বিয়ে দিলেন স্বামী
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নের উচ্চ পর্যায় বৈঠকে সাফ জানিয়েছিলেন যে কোনো পুণ্যার্থীর যেন কোনো রকম অসুবিধা না হয়, সেই কারণে মেলা প্রাঙ্গণ সাজিয়ে তোলার সিংহভাগ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের ওপর। চলতি মাসেই যাতে কাজ অনেকটা এগিয়ে যায় তার জন্য ইতিমধ্যে ঐ দপ্তরের আধিকারিকদের একটি দল গঙ্গাসাগর পৌঁছে গিয়েছে। এ ছাড়াও সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরার দফতর থেকে মেলার কাজকর্ম শুরু করে দিয়েছেন। কাজে কোনও রকম ফাঁকফোকর যাতে না থাকে, সে বিষয়ে সব দফতরকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।












