প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে চিন্তিত রাজ্য রাজনীতি। ভোট প্রচার নিয়ে রীতিমত উঠে পড়ে লেগেছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। এই অবস্থায় আজ, মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত শুরু হল আইপ্যাক মামলার (IPAC ED Raid Case) শুনানি৷ বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর বেঞ্চে রাজ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক পক্ষের বিরুদ্ধে করা ED-র মামলারও শুনানি শুরু হল৷ আর তাতেই ইডির এক্তিয়ার নিয়ে একের পর এক সওয়াল করলেন রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল।
ইডির এক্তিয়ার নিয়ে সওয়াল সিব্বলের
রিপোর্ট মোতাবেক, আজ, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চে আইপ্যাক মামলার শুনানি হয়। এই মামলার শুনানি চলাকালীন গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সওয়াল-জবাব শুরু হয়। সেখানে রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল ইডির এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি আইনের অনুচ্ছেদ ৬৬ অনুযায়ী যুক্তি দেন, ”ইডি যদি আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে তদন্ত চালানোর সময় অন্য কোনও অপরাধের বিষয় জানতে পারে, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ জানাতে পারে।” এছাড়াও কপিল সিব্বল আরও জানান, “সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২-এর অধীনে যে ব্যক্তি আদালতে আসেন, তাঁর কীভাবে মৌলিক অধিকার খর্ব হয়েছে তা জানাতে হবে।” এমনকী ঘটনাস্থলে ইডির ডেপুটি ডিরেক্টর ছিলেন না বলে দাবি তোলেন তিনি।
মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন আদালতে
আইনজীবী কপিল সিব্বলের সওয়ালের মাঝেই বিচারপতি মিশ্র প্রশ্ন করেন, “মুখ্যমন্ত্রী যদি ইডির তদন্তে হস্তক্ষেপ করেন, তবে ইডির কী প্রতিকার চাওয়া উচিত?” তখন বিচারপতির উদ্দেশে সিব্বল বলেন, “আদালত কি এখনই ধরে নিচ্ছে যে, মুখ্যমন্ত্রী কোনও অপরাধ করেছেন?” সেই সময় প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মিশ্র বলেন, “আমরা এখন কিছুই ধরে নিচ্ছি না। আমাদের ভুল বুঝবেন না। প্রতিটি অভিযোগই কিছু তথ্যের উপর ভিত্তি করে হয়। তাই তো ইডি এখানে সিবিআই তদন্ত চেয়েছে।” এদিন আদালতে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন তদন্তের প্রসঙ্গ উঠলে সিব্বল বলেন, “যদি কোনও অপরাধ একটি নির্দিষ্ট রাজ্যের নির্দিষ্ট এলাকায় ঘটে, তা হলে সেই অপরাধের তদন্ত ওই রাজ্যকেই করতে হবে। সেক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও থাকলেও তাই হবে।”
আরও পড়ুন: গ্যাসের হাহাকার! কলকাতার ৫ রুটে বাড়ল অটো ভাড়া, এবার কত হল জানুন
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে কপিল সিব্বলের উদ্দেশে বলেন, “অনুগ্রহ করে শুধু ইডির কথা না বলে, যে সকল ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অন্যায় হয়েছে বলে অভিযোগ, তাঁদের মৌলিক অধিকারের দিকেও মনোযোগ দিন। আপনি যদি শুধু ইডি নিয়েই কথা বলেন এবং সেই দ্বিতীয় পিটিশনটিকে ভুলে যান—তাহলে ওই ইডি আধিকারিকেরা, অন্যায়ের শিকার হবে।”












