সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জেরে চাকরি হারাতে পারেন ২০ লক্ষ শিক্ষক! হতে পারে গণ-ছাঁটাই

Published:

Govt Teachers Job Risk In India

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দেশে বেকারত্বের পরিমাণ কমছেই না, তার উপর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি হয়েই চলেছে। আর এই অবস্থায় ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বর্তমানে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। শিক্ষকদের টেট পাশ (TET Exam) বাধ্যতামূলক ইস্যু নিয়ে দেশজুড়ে প্রায় ২০ লক্ষ সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক তাঁদের কর্মসংস্থান (Govt Teachers Job Risk In India) হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। আর এই গণ-ছাঁটাইয়ের আশঙ্কায় দেশ জুড়ে শিক্ষকদের আন্দোলন Teachers Protest) যেন ক্রমেই আগুনের গলায় পরিণত হচ্ছে।

গণ-ছাঁটাইয়ের পরিস্থিতি দেশ জুড়ে

সূত্রের খবর, ২০০৯ সালে যখন শিক্ষার অধিকার আইন কার্যকর করা হয়েছিল, সেই সময় অনেক রাজ্যেই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত শিক্ষক ছিল না, ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়ে সরকার শর্তসাপেক্ষে অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকদের নিয়োগ করেছিল। তবে তাঁদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও একটি বড় অংশ সেই আইনি শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে যার ফলস্বরূপ আজ এই গণ-ছাঁটাইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশজুড়ে প্রায় ২০ লক্ষ সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকের চাকরি এখন গভীর সংকটের মুখে। যার ফলে বিভিন্ন রাজ্যের রাজপথে প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে।

অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকদের ছাঁটাইয়ের পথে কেন্দ্র

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘শিক্ষক যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা’ বা টেট (TET) পাসের বাধ্যবাধকতা এবং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিয়ে বিগত কয়েক মাস ধরে নানারকম শোরগোল শুরু হয়েছে। আসলে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, শিক্ষার গুণমান বজায় রাখতে যোগ্যতাহীন বা অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকদের ক্লাসরুমে রাখা আইনত অসম্ভব। সেই কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়সীমার পরও যারা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁদের আর চাকরিতে রাখা সম্ভব নয়। এদিকে এই ঘোষণার পরে মাথায় হাত পড়েছে শিক্ষকদের। কারণ এই বয়সে মাঝপথে তাঁদের যদি কর্মচ্যুত করা হয়, তবে লক্ষ লক্ষ পরিবার পথে বসবে।

সংকটজনক পরিস্থিতি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায়

রিপোর্ট বলছে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মতো রাজ্যগুলোতে শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে, একদিকে যখন টেট উত্তীর্ণ প্রার্থীরা নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন করছেন, তখন অন্যদিকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের কর্মরত ‘অযোগ্য’ বা ‘অপ্রশিক্ষিত’ শিক্ষকদের সরিয়ে দেওয়ার চাপ বাড়ছে। যার ফলে বেকারত্ব বাড়ার সম্ভাবনাও প্রবল বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সত্যিই ২০ লক্ষ শিক্ষককে একযোগে ছাঁটাই করা হয়, তাহলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে। এবং হাজার হাজার স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে শিক্ষক না থাকায়।

আরও পড়ুন: বিকেলে দক্ষিণবঙ্গে ঝড়, বৃষ্টির খেলা! ভিজবে কোন কোন জেলা? আগামীকালের আবহাওয়া

আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষক সংগঠনগুলো দাবি জানাচ্ছে যে, সরকার যেন একটি বিশেষ ‘ওয়ান টাইম মেজার’ বা এককালীন সুযোগ হিসেবে তাঁদের পদ বহাল রাখে এবং ইন-সার্ভিস ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে। তবে আইনজীবীরা মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার যদি অর্ডিন্যান্স বা বিশেষ কোনো আইনি সংশোধনী আনে, তবেই এই বিশাল সংখ্যক মানুষের রুজিরুটি বাঁচানো সম্ভব হবে। এখন দেখার তাঁদের কর্ম ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়।

google button