আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দিল্লিতে (Delhi) বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ (Protest) কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে এবার বিরাট বড় পরিবর্তনের পথে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীতে প্রতিবাদ চলছে, যতদিন যাচ্ছে আরও জোরালো হয়ে উঠছে এই কর্মসূচি। তবে এবার এই প্রতিবাদের অন্যতম পরিচিত ঠিকানা যন্তর মন্তরকে (Jantar Mantar) নির্দিষ্ট বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে বিক্ষোভ ও ধরনা কর্মসূচির জন্য তিনটি নতুন স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, এবার থেকে আর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করা চলবে না। নির্ধারিত ওই স্থানগুলিতেই প্রতিবাদ কর্মসূচির ব্যবস্থা করতে হবে।
কোন তিনটি স্থান নির্বাচন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক?
প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য নতুন নির্দেশে যে তিনটি স্থানের নাম রয়েছে, সেগুলি হল রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড। মূলত দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমারের জারি করা নির্দেশে এই পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। ১১ অক্টোবরের নির্দেশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গঠিত একটি কমিটি এই স্থান পরিবর্তন এর সুপারিশ করে। এই সুপারিশের ভিত্তিতেই যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন স্থানগুলিতে কীভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করা যাবে, তা জানিয়ে সংশোধিত নির্দেশিকা বা এসওপি পরে প্রকাশ করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লিতে একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সমস্যা সামনে এসেছে। মানুষের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এবং ভোটার তালিকার এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা দেখা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণের বিষয়টি বিক্ষোভকারীদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুলিশের নির্দেশে স্থান পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে ঠিকই, তবে নতুন স্থানগুলিতে কর্মসূচি আয়োজনের জন্য অনুমতি ও অন্যান্য নিয়ম কীভাবে কার্যকর হবে, তা নির্দেশিকা প্রকাশের পরই স্পষ্টভাবে জানা যাবে।
আরও পড়ুন: ‘দুর্গাপুজোয় না হলে কালীপুজোয় করুন’ বামেদের বুক স্টল নিয়ে বড় মন্তব্য কলকাতা হাইকোর্টের
উল্লেখ্য, আমাদের দেশে যন্তর মন্তর বহু বহু আগে থেকেই বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে কৃষকদের দাবি, ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ এবং বিভিন্ন জনস্বার্থের ইস্যুতে সেখানে বহু কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে। এই জায়গাটি সংসদ ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় প্রতিবাদকারীদের কাছে এর বিশেষ গুরুত্ব ছিল। ফলে যন্তর মন্তরকে নির্দিষ্ট বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা শান্তিপূর্ণভাবে মেনে নেওয়া হবে সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।










