অনন্যা সরকার, পুজোর ছুটিতে ঘুরতে যেতে অনেকেই ভালবাসেন। আগে থেকেই পুরো ট্যুর প্ল্যান করা থাকে। ট্রেনে এই সময় যাত্রীদের চাপ থাকে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি। তাই বাসে করে উত্তরবঙ্গ ভ্রমণের সুযোগ (Special Tour Package) করে দিচ্ছে নর্থ বেঙ্গল স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (NBSTC)। এই বিশেষ প্যাকেজ ট্যুরে পাহাড় ও জঙ্গল – উভয়েরই দেখা মিলবে। মহালয়ার সকালে কোচবিহার থেকে শুরু হবে যাত্রা এবং শান্ত, নির্জন ও সবুজে ভরা যাত্রাপথ ধরে বাস এগিয়ে যাবে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। যেহেতু ভ্রমণের সিংহভাগ পথই জঙ্গলের মধ্য দিয়ে যাবে, তাই এই উদ্যোগটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘নিঝুম অরণ্যের পথে’। যাত্রীরা এনবিএসটিসি-র বাসে করে রাজভাতখাওয়া, জয়ন্তী ও চিলাপাতা ভ্রমণ করবেন। এই প্যাকেজের মধ্যেই খাওয়া-দাওয়া এবং গান-নাচ সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নতুন ট্যুর প্যাকেজে কী কী সুবিধা মিলবে
আগে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার বাস কোচবিহার থেকে রসিকবিল, জয়ন্তী, লাভা, লোলেগাঁও, দার্জিলিং এবং কালিম্পং-এর মতো ট্যুরিস্ট স্পটগুলিতে প্যাকেজ ট্যুর চালাত। এই প্রকল্পটি ‘সবুজের পথে হাতছানি’ নামে পরিচিত ছিল। তবে, মূলত কর্মী সংকটের কারণে গত দুই-তিন বছর ধরে এই ভ্রমণ প্যাকেজটি স্থগিত ছিল। তবে এবার পুজোর মরশুমে নতুন করে এই প্যাকেজ ট্যুরগুলি পুনরায় চালু করতে চলেছে এনবিএসটিসি। মহালয়ার সকাল থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত এই ট্যুরগুলি একটানা চলবে। এরপর, উৎসব ও শীতের মরসুম জুড়ে প্রতি শনি ও রবিবার এই পরিষেবা চালু থাকবে। একটি ৪১ আসনের বাস কোচবিহার থেকে আলিপুরদুয়ার হয়ে রাজভাতখাওয়ায় যাবে এবং সেখান থেকে জয়ন্তীর দিকে রওনা দেবে।
ফেরার সময় বাসটি নিমতির রাস্তা ধরে চিলাপাতা জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে গিয়ে সন্ধ্যায় কোচবিহারে ফিরে আসবে। সকালের প্রাতঃরাশ এবং বিকালের চা ও জলখাবার সহ মাথাপিছু ভাড়া ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা স্থির করা হয়েছে। এছাড়াও, চিলাপাতা জঙ্গলের ভিতরে অবস্থিত কোদালবস্তিতে রাভা ও আদিবাসীদের নৃত্য উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরা।
আরও পড়ুন: কলকাতা থেকে ভুটান চালু লাক্সারি বাস পরিষেবা, জানুন রুট ও সময়সূচি
এছাড়াও, বাসে উপস্থিত থাকবেন এক সঙ্গীতশিল্পী, যিনি গান গেয়ে যাত্রীদের মনোরঞ্জন করবেন। সোমবার থেকেই কোচবিহার পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে এই ট্যুর প্যাকেজের অফলাইন টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ রাজ্য পরিবহন সংস্থার ম্যানেজিং ডাইরেক্টর অশ্বিনী কুমার রায় বলেন, সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ভ্রমণ পিপাসুদের মধ্যে অনেকেই এই পরিষেবাটি আবার চালু করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।










