প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোট চুরি নিয়ে দেশজুড়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রীতিমতো শোরগোল শুরু হয়েছে। বাদ যায়নি পশ্চিমবঙ্গও। এমতাবস্থায় বাংলায় ভোটার তালিকা (West Bengal Voter List) নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। জানা গিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়েছিল বা যাঁরা নাম তুলতে পারেননি, তাঁদের জন্য ২৪জন জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা একটি সক্রিয় অভিযান করতে চলেছে, যাতে কোনো যোগ্য ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন।
বিশেষ বিজ্ঞপ্তি নির্বাচন কমিশনের
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, সোমবার রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আসে। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, “বাদ পড়ে যাওয়া যোগ্য নাগরিকদের নাম দ্রুত তালিকায় ফিরিয়ে আনতে রাজ্যজুড়ে ২৪ জন জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা একটি সক্রিয় অভিযান চালাবে। আর এটি নিশ্চিত করতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ শিবিরেরও আয়োজন করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তির যদি এই ব্যাপারে কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট বিএলও, এআরও, ইআরও বা ডিইও-এর সাথে যোগাযোগ করুন।”
As per instructions of Election Commission of India, 24 DEOs of the state of West Bengal have started a proactive campaign to ensure that No eligible elector is left out of the electoral rolls.#PressNote @ECISVEEP@SpokespersonECI@PIBKolkata@AIRKolkata pic.twitter.com/f5daQRAtcK
— CEO West Bengal (@CEOWestBengal) October 12, 2026
শিবিরের আয়োজন করা হবে
জানা গিয়েছে, সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পাড়ায় পাড়ায় ‘বুথ লেভেল ক্যাম্প’ আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে, SIR-এর আগের ও পরের ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখে তালিকাভুক্ত না হওয়া যোগ্য নাগরিকদের চিহ্নিত করবেন বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO)। তারপর তালিকা অনুযায়ী সরকারি প্রতিনিধিরা সরাসরি বাদ পড়া ভোটারদের দুয়ারে বা বাড়িতে গিয়ে হাজির হবেন। সেখানে বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে যোগ্য নাগরিকদের জন্য ‘ফর্ম ৬’ পূরণ করিয়ে নেওয়া হবে এবং নাম তোলার যাবতীয় ব্যবস্থা করা হবে।
আরও পড়ুন: নিষিদ্ধ পান-গুটখা-সিগারেট! বড় সিদ্ধান্ত কলকাতা হাইকোর্টের
SIR-কে ঘিরে যখন প্রতিটি রাজ্যে বিরোধী পক্ষের তরফে একের পর এক বিক্ষোভমূলক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে সেখানে বাংলায় নির্বাচন কমিশন এক দারুণ পদক্ষেপ নিল। ইতিমধ্যেই সক্রিয় অভিযানের বার্তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে স্কুল-কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা সভা করা হবে বলে জানা গিয়েছে। একইসঙ্গে ‘এসভিইইপি’ এবং স্থানীয় মাধ্যমের সাহায্যে এই বিশেষ অভিযান চালানো হবে। এখন দেখার এই প্রক্রিয়া বাস্তবে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে।










